খাবারের লোভ দেখিয়ে বাড়িতে ডেকে নৃশংসতা! ৭৪ বছরের ‘দাদুর’ কুকীর্তিতে ধিক্কারে ফেটে পড়ল দুর্গাপুর

বয়সের ভারে কুঁজো হওয়ার কথা, অথচ সেই বয়সেই কামাতুর হয়ে এক ১০ বছরের নাবালিকাকে চরম নিগ্রহের অভিযোগ উঠল এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে ডেকে নিয়ে গিয়ে এক নাবালিকাকে যৌন হেনস্তা করার অভিযোগে ৭৪ বছরের এক প্রতিবেশীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনায় দুর্গাপুরের জেমুয়া বা সংলগ্ন এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
কী ঘটেছিল সেদিন রাতে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই নাবালিকা একটু কম কথা বলে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই অভিযুক্ত বৃদ্ধ তাকে নানাভাবে ফাঁদে ফেলার ফন্দি আঁটে। মঙ্গলবার রাতে খাবার বা লোভনীয় কিছুর প্রলোভন দেখিয়ে ১০ বছরের ওই বালিকাকে নিজের বাড়িতে ডেকে আনে প্রতিবেশী ওই বৃদ্ধ।
অভিযোগ, এরপর মেয়েটিকে ঘরে আটকে রেখে তার ওপর অকথ্য শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হেনস্তা চালানো হয়। শিশুটি ভয়ে ও যন্ত্রণায় চিৎকার শুরু করলে তার আর্তনাদ কানে আসে পরিবারে লোকজনের। এরপর তড়িৎ গতিতে তাঁরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে নাবালিকাকে উদ্ধার করেন।
পুলিশের জালে ধৃত, জেরায় সব স্বীকার
মেয়েটির পরিবার রাতেই দুর্গাপুর থানায় গিয়ে সমস্ত ঘটনার বিবরণ দিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পাওয়ার পরই তড়িঘড়ি আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের তদন্তকারী দল আসরে নামে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিশনারেটের এক আধিকারিক জানান, নাবালিকার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই অভিযুক্ত বৃদ্ধকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। থানায় এনে জেরা করতেই নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে ওই বৃদ্ধ।
পকসো আইনে মামলা ও আদালতের নির্দেশ
শিশুর ওপর এই পৈশাচিক হামলার ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইন সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি, অভিযুক্তের ঘর থেকে ঘটনার বেশ কিছু তথ্য ও পোশাক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
বুধবার ধৃত ৭৪ বছরের বৃদ্ধকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। দিনের পর দিন এমন প্রবীণ মানুষের মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা পৈশাচিক রূপ দেখে স্তম্ভিত এলাকাবাসী। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন ক্ষুব্ধ প্রতিবেশীরা।