স্কুল মানেই কি আর আনন্দ নয়? দ্বাদশ শ্রেণীতে পৌঁছতেই কেন এমন বিস্ফোরক বদল পড়ুয়াদের মধ্যে?

স্কুল জীবন সাধারণত প্রতিটি মানুষের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও সোনালী অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। শৈশব থেকে কৈশোর পেরিয়ে তারুণ্যের এই পর্বে নতুন বন্ধু, পড়াশোনা আর খেলাধুলার স্মৃতি আজীবন মনে রাখেন সকলে। কিন্তু সাম্প্রতিক একটি সর্বভারতীয় সমীক্ষায় যে তথ্য সামনে এসেছে, তা রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে শিক্ষক সমাজ ও অভিভাবকদের। সমীক্ষায় দেখা গেছে, দ্বাদশ শ্রেণীতে পা রাখার আগেই স্কুল জীবনের প্রতি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ কমতে শুরু করে এবং একটা বড় অংশ স্কুল জীবনকে আর উপভোগ করতে পারে না।
সমীক্ষায় কী তথ্য উঠে এল?
কাউন্সিল ফর দ্য ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট এক্সামিনেশনস (CISCE) এবং IC3 ইনস্টিটিউট যৌথভাবে দেশজুড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমীক্ষা চালায়। ‘স্টুডেন্ট ওয়েল-বিইং পালস রিপোর্ট ২০২৫-২৬’ শিরোনামের এই সমীক্ষাটি দেশের প্রায় ৮,৫১৫ জন ছাত্রছাত্রীর ওপর পরিচালিত হয়।
সমীক্ষার পরিসংখ্যান অনুযায়ী—
অষ্টম শ্রেণীর চিত্র: সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী অষ্টম শ্রেণীর প্রায় ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের বর্তমান শিক্ষাজীবন এবং স্কুলের পরিবেশ নিয়ে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট। এই বয়সে তাদের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্দীপনা অনেক বেশি থাকে।
দ্বাদশ শ্রেণীর চিত্র: ঠিক উলটো ছবি ধরা পড়েছে দ্বাদশ শ্রেণীর ক্ষেত্রে। এই শ্রেণীতে পৌঁছানো শিক্ষার্থীদের প্রায় ৫৯ শতাংশই তাদের স্কুল জীবন ও পঠনপাঠন নিয়ে তীব্র অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
কেন তৈরি হচ্ছে এমন পরিস্থিতি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাক-প্রাথমিক বা প্রাথমিক স্তরে শিশুরা যতটা উৎসাহ ও আনন্দে স্কুল জীবন উপভোগ করে, উচ্চ মাধ্যমিকে পৌঁছানোর সাথে সাথে সেই চিত্রটা সম্পূর্ণ বদলে যায়। বোর্ড পরীক্ষার চাপ, ভবিষ্যতের কেরিয়ার গড়ার তাগিদ, অতিরিক্ত প্রতিযোগিতার মনোভাব এবং পড়াশোনার সিলেবাসের বিপুল বোঝ (Academic Stress)-এর কারণে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস কমতে শুরু করে। তারা মানসিক চাপের শিকার হয়।
সার্বিকভাবে এই জাতীয় সমীক্ষার রিপোর্ট শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। কীভাবে পড়ুয়াদের মানসিক চাপ কমানো যায় এবং স্কুল জীবনকে আবার আনন্দদায়ক করে তোলা যায়, তা নিয়ে এখন চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন শিক্ষাবিদরা।