১২ দিন পর মুখ খুলল ১৩ বছরের নাবালিকা! ছত্তিশগড়ে গণধর্ষণের নারকীয় ঘটনায় গ্রেফতার ৩

ছত্তিশগড়ের বালোদ জেলায় এক ১৩ বছর বয়সী নাবালিকাকে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ঘটনার ভয়াবহতায় শিউরে উঠে ১২ দিন ধরে প্রচণ্ড আতঙ্কে চুপ ছিল কিশোরীটি। অবশেষে ধামাচাপা না রেখে মায়ের কাছে সেই কালরাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা খুলে বলে সে। নির্যাতিতার কাছ থেকে সত্যিটা জানার পরপরই পরিবার পুলিশের দ্বারেস্থ হয়। অভিযোগ পেতেই পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তদন্তে নেমে ঘটনায় জড়িত তিনজন অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করেছে।
সংবাদের ৩টি প্রধান বিষয়:
নৃশংস ঘটনা: রাঞ্চিরাই থানা এলাকার একটি গ্রামে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে গণধর্ষণ করে তিনজন স্থানীয় যুবক।
১২ দিনের আতঙ্ক ও নীরবতা: প্রাণভয়ে ও আতঙ্কে ঘটনার পর থেকে ১২ দিন চরম মানসিক ট্রমার মধ্যে চুপ করে ছিল নির্যাতিতা।
তাত্ক্ষণিক পুলিশি পদক্ষেপ: মায়ের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁদ পেতে অভিযুক্ত তিন জনকেই গ্রেফতার করেছে বালোদ থানার পুলিশ।
যেভাবে প্রকাশ্যে এলো ঘটনাটি
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ই অক্টোবর বালোদের রাঞ্চিরাই থানা এলাকার একটি গ্রামে এই নারকীয় ঘটনাটি ঘটে। ওই দিন তিনজন অভিযুক্ত সুযোগ বুঝে ১৩ বছরের কিশোরীটির ওপর চড়াও হয় এবং তাকে গণধর্ষণ করে। ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে জানালে মারাত্মক পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ।
হুমকি ও আতঙ্কের কারণে ঘটনা ঘটার পর টানা ১২ দিন মারাত্মক মানসিক ট্রমার মধ্যে ছিল কিশোরীটি। শেষ পর্যন্ত ভয় কাটিয়ে সে তার মাকে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া পুরো ঘটনাটি বিস্তারিত জানায়।
অভিযুক্তরা গ্রেফতার, শুরু তদন্ত
মেয়ের মুখ থেকে এই ভয়াবহ নির্যাতনের কথা জানার পরেই আর দেরি করেননি মা। তিনি সোজাসুজি স্থানীয় রাঞ্চিরাই থানায় পৌঁছে তিন যুবকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ অবিলম্বে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং পকসো (POCSO) আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে। একটি বিশেষ টিম গঠন করে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।