ব্যাঙ্কে গিয়ে চোখ কপালে উঠল গ্রাহকদের! এক ধাক্কায় অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব ৩৫ কোটি টাকা, বড় কেলেঙ্কারিতে তোলপাড়

সরকারি ব্যাঙ্কে জমানো সারা জীবনের কষ্টার্জিত টাকা কি তবে সুরক্ষিত নয়? পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB)-এর একটি শাখায় অ্যাকাউন্টধারীদের কোটি কোটি টাকা জালিয়াতির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই বিরাট কেলেঙ্কারির পরিমাণ প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। এই খবর চাউর হতেই ব্যাঙ্কের সামনে উপচে পড়েছে গ্রাহকদের ভিড়। কেউ এফডি (FD) নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন, আবার কেউ সেভিংস অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স নিয়ে ছুটছেন ব্যাঙ্কে।
গ্রাহকদের অজান্তেই ভাঙছে এফডি! চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
ঘটনাটি ঘটেছে গ্রেটার নয়ডার সেক্টর পিআই-১-এর অন্তর্গত আইছর গ্রামের একটি পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক শাখায়। বহু গ্রাহক তাঁদের সঞ্চয় এবং ফিক্সড ডিপোজিটের বড় অংক এই ব্যাঙ্কে জমা রেখেছিলেন।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, গ্রাহকদের সম্পূর্ণ অজ্ঞাতে তাঁদের ফিক্সড ডিপোজিট নির্ধারিত সময়ের আগেই ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং সেই টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেকে তাঁদের সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকেও লক্ষ লক্ষ টাকা গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
কারও ৮০ লক্ষ, তো কারও ১.১৮ কোটি টাকা সাফ!
অমরপাল (গ্রাহক): ব্যাঙ্কে তাঁর তিনটি এফডি-তে মোট ৮০ লক্ষ টাকা জমা ছিল। তাঁর অভিযোগ, কোনোরকম অনুমতি ছাড়াই সেই এফডি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশে অভিযোগ জানিয়েও এখনও টাকা হাতে পাননি তিনি।
ব্রিজেশ কুমার (গ্রাহক): টাকা তুলতে গিয়ে তাঁর চক্ষু চড়কগাছ! অ্যাকাউন্টে ১.১৮ কোটি টাকা থাকার কথা থাকলেও তিনি দেখতে পান অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি শূন্য। দিওয়ালির আগে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর।
বীণা (গ্রাহক): সরকারি ব্যাঙ্ক ভেবে টাকা রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু এখন ব্যাঙ্ক থেকে কেবল একটি আবেদনপত্র জমা দিতে বলা হলেও টাকা কবে ফেরত মিলবে, তার সদুত্তর দিতে পারছেন না কেউ।
ব্যাঙ্কের সাফাই ও কড়া পদক্ষেপ
পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নেমেছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। পিএনবির চিফ ম্যানেজার রাজেশ নিগম গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, “বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। ব্যাঙ্কে যার টাকা আছে, তিনি তা ১০০ শতাংশ ফেরত পাবেন। কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।”
এদিকে এই বড়সড় জালিয়াতির কথা প্রকাশ্যে আসতেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত শাখা ব্যবস্থাপকসহ মোট পাঁচজন কর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ওই শাখায় নতুন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতারণার এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকেও আলাদাভাবে জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে হাতবদল হলো, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।