খাবারের টেবিলে চলছিল আনন্দ-উল্লাস, হঠাৎ গর্জে উঠল বন্দুক! মার্কিন মুলুকের এই লোমহর্ষক কাণ্ডে শিউরে উঠল বিশ্ব!

হাসিখুশি ও আনন্দমুখর এক পারিবারিক ডিনারের মাঝেই ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যের বিলিংস শহরে ডিনারের টেবিলে একসঙ্গে বসে থাকা আটজন আত্মীয়কে নির্মমভাবে গুলি করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে পরিবারেরই এক সদস্যের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ ঘটনায় চার প্রজন্মের একটি গোটা পরিবার নিমেষে ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘটনার তীব্রতায় গোটা মন্টানা সহ বিশ্বজুড়ে গভীর শোক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

পরিবারের এক সদস্য অ্যাডাম ঘেকিয়েরে, যিনি ঘটনার সময় কর্মসূত্রে বাড়ির বাইরে ছিলেন, তিনি জানান যে নিহতদের মধ্যে তাঁর নিজের প্রাক্তন স্ত্রী এবং দুই সন্তানও রয়েছে। এই নৃশংস হামলায় মৃতদের বয়স পরিসীমা ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক—৯০ বছরের এক বৃদ্ধা থেকে শুরু করে মাত্র ৭ বছরের এক অবুঝ শিশু পর্যন্ত এই প্রাণঘাতী হামলার শিকার হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারজনই ছিল শিশু। ঘাতক অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় একের পর এক গুলি চালিয়ে পরিবারের আটটি তাজা প্রাণ কেড়ে নেয় এবং এরপরেই ওই বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। গুলির শব্দ থামার কিছুক্ষণ পরেই দাউদাউ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাড়িতে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি ভয়াবহ করে তোলে।

স্থানীয় পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গুরুতর জখম ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৪ বছর বয়সি ওই হামলাকারীর মৃত্যু হয়। তবে ঠিক কী কারণে পরিবারের নিজস্ব সদস্য এমন পৈশাচিক কান্ড ঘটিয়ে গোটা পরিবারকে শেষ করে দিল, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য প্রকাশ করেনি। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ অফিসাররা অনুমান করছেন যে, এটি কোনো আকস্মিক বা বহিরাগত হামলা ছিল না, বরং গভীর পারিবারিক বিরোধ ও পূর্বপরিকল্পিত আক্রোশের ফলেই এই নৃশংস রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে।