খন্ডিত মূর্তি পুনরুদ্ধারের আবেদন খারিজ! সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বললেন, ‘ভগবানকে গিয়ে প্রার্থনা করুন’

মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহোতে অবস্থিত জাভারি মন্দিরে একটি সাত ফুট উঁচু খন্ডিত বিষ্ণুমূর্তি পুনরুদ্ধারের জন্য দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই ধরনের বিষয় আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত নয়, বরং এটি ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ (এএসআই)-এর এখতিয়ারভুক্ত।

বিচারপতির মন্তব্য

মামলা খারিজ করার সময় প্রধান বিচারপতি আবেদনকারী রাকেশ দালালকে বলেন, “আপনি বলেছেন আপনি ভগবান বিষ্ণুর একনিষ্ঠ ভক্ত। তাই এখনই গিয়ে প্রার্থনা করুন। এটি একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান এবং এএসআই-এর অনুমতি দরকার।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের বিষয়ে এএসআই-এর অনেক নিয়ম-কানুন রয়েছে এবং আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তিনি মজা করে আরও বলেন, যদি আবেদনকারীর শৈবধর্মে কোনো আপত্তি না থাকে, তাহলে তিনি সেখানে গিয়ে শিবলিঙ্গের পূজা করতে পারেন, কারণ সেখানে খাজুরাহোর অন্যতম বড় শিবলিঙ্গ রয়েছে।

কেন এই আবেদন?

রাকেশ দালাল নামে এক ব্যক্তি এই আবেদনটি দায়ের করেছিলেন। তাঁর দাবি, মুঘল আক্রমণের সময় খাজুরাহোর জাভারি মন্দিরের এই মূর্তিটি বিকৃত করা হয়। তিনি বলেন, বহুবার সরকারের কাছে আবেদন জানানো সত্ত্বেও মূর্তিটি একই অবস্থায় রয়ে গেছে। রাকেশের যুক্তি ছিল যে, মূর্তিটি পুনরুদ্ধার না হওয়ায় ভক্তদের পূজা করার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তিনি এই বিষয়ে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন।

জাভারি মন্দির ও মূর্তি

জাভারি মন্দিরের গর্ভগৃহে থাকা ভগবান বিষ্ণুর সাত ফুট উঁচু মূর্তিটির মাথা নেই। এই কারণে সেখানে কোনো পূজা করা হয় না। চান্দেলা শাসকদের দ্বারা ১০৫০ থেকে ১০৭৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত এই মন্দিরটি তার অসাধারণ স্থাপত্যের জন্য ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত।

আবেদনকারী রাকেশ দালাল দিল্লির জাতীয় বীর কিষাণ মজদুর সংঘের সভাপতি। কৃষক এবং ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থান সম্পর্কিত বিষয়গুলিতে তিনি বরাবর সরব। খাজুরাহো ছাড়াও তিনি সারা দেশের মন্দিরের ভাঙা মূর্তি মেরামতের জন্য কাজ করে থাকেন।