খনিজ সম্পদ ও প্রযুক্তিকে অস্ত্র করবেন না! ব্রিকস মঞ্চ থেকে বিশ্বকে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে অত্যন্ত জোরালো ও দূরদর্শী বক্তব্য রেখে আন্তর্জাতিক মহলের নজর কাড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বার্তা দিয়ে তিনি সদস্য দেশগুলিকে প্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ বা এর ‘অস্ত্রীকরণ’ করার বিরুদ্ধে তীব্র সতর্কবার্তা দিয়েছেন। মোদি স্পষ্টভাবে জানান যে, কৌশলগত এই উপাদানগুলিকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার বা রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা বিশ্বের অভিন্ন উন্নয়নের গতিপথকে চিরতরে থমকে দিতে পারে। বিশ্বজুড়ে যখন অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে, ঠিক সেই সময়ে খনিজ সম্পদের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে মোদি গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বরকে আরও উঁচুতে তুলে ধরেছেন।

সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, মানব উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার নিবিড় ভারসাম্য বজায় রাখাই বর্তমান যুগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই ব্রিকসের মূল ভিত্তি ছিল চারটি স্তম্ভ—সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্ব। সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও দৃঢ় করে এই লক্ষ্যগুলিকে ‘উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক সহযোগিতা’-য় রূপ দিতে ভারত সফলভাবে কাজ করেছে বলে তিনি জানান। বর্তমান বিশ্বে সংঘাত, মহামারি বা জলবায়ু বিপর্যয়ের মতো সংকটগুলি আর কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা বিশ্ব অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। এই প্রেক্ষাপটে ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে সহনশীলতা এবং পারস্পরিক সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।

উন্নয়নমূলক উদ্যোগের রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় ‘ব্রিকস ইন্টিগ্রেটেড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম’ গড়ে তোলার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং লজিস্টিকস সাপ্লাই চেইনকে আরও নির্ভরযোগ্য করার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। একইসঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ব্রিকস স্টার্টআপ ইনোভেশন ফান্ড গঠন এবং ডিজিটাল এগ্রিকালচারের মাধ্যমে কৃষকদের আরও শক্তিশালী করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্বের প্রসঙ্গ টেনে মোদি অত্যন্ত ক্ষুরধার সুরে বলেন যে, বিশ্বজুড়ে বর্তমান সংকটগুলির মোকাবিলায় গ্লোবাল সাউথ যদি সামনের সারিতে থাকে, তবে নীতি নির্ধারণ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের পিছনের সারিতে রাখা চলবে না। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে গ্লোবাল সাউথের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক শাসন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানান।