পর পর তিন দিন ব্যাহত হলো ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স-এর উড়ান পরিষেবা। মঙ্গল ও বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও প্রায় ১৭০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে খবর। কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু এবং হায়দ্রাবাদ সহ দেশের একাধিক বিমানবন্দরে বাড়ছে যাত্রীদের ক্ষোভ। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে ডিরেক্টরেট অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA)।
বুধবারের মতো আজও মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদের বিমানবন্দরগুলিতে বহু যাত্রী রাতভর আটকে ছিলেন। বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। গতকাল কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ মিলিয়ে প্রায় ২০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল। সাধারণত ইন্ডিগো দৈনিক ২২০০ ফ্লাইট পরিচালনা করে, যার মধ্যে বুধবার মাত্র ৩৫ শতাংশ ফ্লাইট নির্দিষ্ট সময়ে উড়তে পেরেছিল।
নিয়ম পরিবর্তন না অন্যান্য কারণ?
ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ বুধবার প্রেস বিবৃতি দিয়ে যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিল। তারা এই পরিস্থিতির জন্য একাধিক কারণ উল্লেখ করেছে:
-
যান্ত্রিক ত্রুটি ও আবহাওয়া: কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।
-
কর্মীদের কাজের সময়সূচি: বিমানকর্মীদের কাজের সংশোধিত সময়সূচি (DGCA-এর নির্দেশিকা) পরিষেবাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে দাবি করেছে ইন্ডিগো।
যদিও DGCA পাইলট ও কেবিন ক্রুদের বেশি বিশ্রাম দেওয়ার জন্য ১ নভেম্বর থেকেই ডিউটির সময় পরিবর্তন করে দিয়েছে। প্রায় এক মাস পর কেন এই নিয়মের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আজ কোন বিমানবন্দর থেকে কত ফ্লাইট বাতিল (বুধবারের হিসাব)
সূত্রের খবর অনুযায়ী, বুধবার বিকেল পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ:
-
মুম্বই: ৫১টি ফ্লাইট বাতিল
-
দিল্লি: ৩৩টি ফ্লাইট বাতিল
-
বেঙ্গালুরু: ২০টি ফ্লাইট বাতিল
-
হায়দ্রাবাদ: ১৯টি ফ্লাইট বাতিল
-
কলকাতা: ১৫টি ফ্লাইট বাতিল
ইন্ডিগোর এই পরিস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে DGCA কেন এমন হচ্ছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে।