‘ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা রাজনীতি নয়, মানুষের সেবা করা’, ইনডোর সভা থেকে TVK সুপ্রিমো বিজয়ের কড়া বার্তা, শুরু হলো নতুন নির্বাচনী রণনীতি!

করুরের মর্মান্তিক পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পর দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে অবশেষে জনসম্মুখে ফিরে এলেন তামিলাগা ভেট্রি কঝগম (TVK) প্রধান তথা তারকা রাজনীতিক বিজয়। রবিবার সাংগুভারচত্রমের একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে সম্পূর্ণ ইনডোর সভায় উপস্থিত হন তিনি। এই ঘটনা তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে তাঁর প্রত্যাবর্তনের জল্পনায় কার্যত পূর্ণবিরাম টানল।

করুরে বিজয়ের শেষ বৃহৎ জনসভায় পদদলিত হয়ে ৪১ জনের মৃত্যু গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই ট্র্যাজেডির পর থেকেই তিনি জনসমাবেশ থেকে দূরে ছিলেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্তিমিত থাকলেও, এই সময়ে তিনি মৃতদের পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে সমবেদনা জানিয়েছিলেন।

নিরাপত্তাই মূল ফোকাস: সীমিত জনসমাগম
দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে বিজয়ের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনে তুমুল আগ্রহ তৈরি হলেও, দল এবার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার ওপর কড়া নজরদারি রাখে। ভিড় ও অনিয়ন্ত্রিত জনসমাগম এড়াতে, এই সভায় মাত্র দুই হাজার মনোনীত কর্মীকে কিউআর-কোডেড বিশেষ পাসের মাধ্যমে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

TVK সূত্রে খবর, সেলেম থেকে তাঁর নির্বাচনী প্রচারের আনুষ্ঠানিক সূচনা করার পরিকল্পনা থাকলেও কার্তিকা দীপম উৎসবের কারণে প্রশাসন আপত্তি জানায়। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দল এই সীমিত ইনডোর “People’s Meeting” আয়োজন করে, যা করুরের ভয়াবহ স্মৃতি থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতার পথে ফেরার ইঙ্গিত বহন করে।

মঞ্চে উঠেই তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক বার্তা
মঞ্চে উঠেই বিজয়ের বক্তৃতার মূল নিশানা ছিল রাজ্যের শাসক দল DMK। সরাসরি নাম উল্লেখ না করলেও তিনি তীব্র রাজনৈতিক বার্তা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, “রাজনীতি মানুষের সেবা করার পথ, মানুষের জীবনের ঝুঁকি বা ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে থাকার মাধ্যম নয়।”

তাঁর ভাষণে তিনটি মূল বিষয় গুরুত্ব পায়— দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ‘প্রতিটি পরিবারের জন্য স্বস্তি’র অঙ্গীকার। তিনি কর্মীদের প্রতি নির্দেশ দেন, TVK যেন ‘সংস্কারমুখী ও সহানুভূতিশীল’ রাজনীতির মাধ্যমে শক্তি সংগ্রহ করে। বিজয়ের কথায়, “দল বড় হলে দেশের উন্নতি হয় না; মানুষের জীবন বড় হলে তবেই সমাজ ও রাজনীতি শক্তিশালী হয়।”

নির্বাচনী কৌশলের ইঙ্গিত
সভা শেষে বাইরে অপেক্ষারত সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়লেও বিজয় কোনো পথসভা বা গণসংযোগে অংশ নেননি। এর থেকেই স্পষ্ট যে করুরের ঘটনার পর তিনি এখনও প্রচারকে সম্পূর্ণভাবে ওপেন-গ্রাউন্ড ফরম্যাটে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন না।

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই সীমিত জনসভাই নির্বাচনী কৌশলের অন্যতম সূচনা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সেলেব্রিটি ইমেজ ও করুর দুর্ঘটনায় তাঁর মানবিক অবস্থানের কারণে বিজয়ের জনপ্রিয়তা এখনও অটুট। আগামী কয়েক মাসে TVK সংগঠন শক্তিশালী করতে পারলে ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাঁর দল নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

এখন কেবল সময়ই বলবে ইনডোর মিটিং থেকে শুরু হওয়া বিজয়ের এই নতুন রাজনৈতিক সফর তামিলনাড়ুর ভাগ্যকে কোন দিকে নিয়ে যায়।