মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ঘনীভূত হওয়া ধোঁয়াশা আরও রহস্যময় হয়ে উঠল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২৩ মার্চ, ২০২৬) দাবি করেছিলেন যে ইরানের সঙ্গে তাঁর প্রশাসনের ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে এবং সেই কারণেই তিনি ৫ দিনের জন্য হামলা স্থগিত করেছেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই সেই দাবি সরাসরি উড়িয়ে দিল ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে তাঁদের কোনও স্তরেই— প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ— কোনও আলোচনা চলছে না।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘মেহর’ (Mehr News) দেশটির বিদেশ মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, “ট্রাম্পের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমেরিকা আসলে তেলের দাম কমাতে এবং তাদের সামরিক প্রস্তুতির জন্য সময় কিনতেই এই আলোচনার গল্প সাজাচ্ছে।” একইসঙ্গে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যদি ৫ দিনের এই তথাকথিত আল্টিমেটামের পর ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়, তবে ইজরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত মার্কিন ঘাঁটি অন্ধকার করে দেওয়া হবে।
এদিকে, এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। বেজিংয়ের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই ‘অপরিণামদর্শী’ হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্য একটি ‘নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতি’র (Uncontrollable Situation) দিকে এগোচ্ছে। চীন স্পষ্ট জানিয়েছে, শক্তির ব্যবহার কেবল একটি ‘দুষ্টচক্র’ তৈরি করবে এবং এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা ধ্বংস হয়ে যাবে। একদিকে ট্রাম্পের ‘ডিল’ করার মরিয়া চেষ্টা, অন্যদিকে ইরানের ‘পিছু না হটার’ জেদ— দুইয়ের মাঝে পড়ে গোটা বিশ্ব এখন প্রমাদ গুনছে।