দুর্ঘটনার কবলে পড়লেই রেফার হওয়ার যন্ত্রণা! দীর্ঘ দেড় দশক ধরে আসানসোল জেলা হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটের দিকে তাকিয়ে থেকে এই অভিশপ্ত অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন সাধারণ মানুষ। ভবন আছে, কোটি কোটি টাকার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিও ধুলো জমছে, কিন্তু নেই চিকিৎসা পরিষেবা। অবশেষে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রকল্প নিয়ে ফের সরব হয়েছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল এই কেন্দ্রটি দ্রুত চালুর বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।
কেন এই ট্রমা কেয়ার সেন্টারের প্রয়োজন? আসানসোল মহকুমার ওপর দিয়ে যাওয়া ১৯ ও ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এছাড়া শহরের ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিনিয়ত ঘটা সড়ক দুর্ঘটনায় বহু মানুষ প্রাণ হারান। জরুরি অস্ত্রোপচার বা নিউরো সার্জারির মতো আধুনিক চিকিৎসার অভাবে গুরুতর আহত রোগীদের প্রায়ই রেফার করা হয় দুর্গাপুর বা কলকাতায়। এই ‘গোল্ডেন আওয়ারে’ চিকিৎসার অভাবে অনেকের প্রাণ অকালে ঝরে যায়।
সব থেকেও কেন নেই পরিষেবা? বাম আমলে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের স্বপ্ন আরও বড় আকার পায় ২০১১ সালে আসানসোল মহকুমা হাসপাতাল জেলা হাসপাতালের মর্যাদা পাওয়ার পর। পরিকল্পনা ছিল এটিকে একটি ‘লেভেল-টু’ ট্রমা কেয়ার সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলার। সেখানে ডিজিটাল এক্স-রে থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থা—সবই থাকার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক অবহেলা ও দীর্ঘসূত্রতায় সেই উদ্যোগ থমকে যায়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ভবন তৈরি ও যন্ত্রপাতি এলেও, চিকিৎসক, নিউরো সার্জন, অ্যানাস্থেটিস্ট এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে প্রকল্পটি আজও চালু করা সম্ভব হয়নি।
পরিবর্তনের অপেক্ষায় আসানসোল: দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও আসানসোলের মানুষ সেই ট্রমা কেয়ার সেন্টারের সুবিধার থেকে বঞ্চিত। কোটি কোটি টাকার সরকারি যন্ত্রপাতি এভাবে পড়ে থাকাকে বড় ধরনের অপচয় হিসেবে দেখছেন সচেতন নাগরিকরা। এই পরিস্থিতির মধ্যে অগ্নিমিত্রা পালের আশ্বাস নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন— কবে চালু হবে এই সেন্টার? কবে বন্ধ হবে রেফার হওয়ার বিড়ম্বনা?
প্রশাসনিক সদিচ্ছা থাকলে এই মৃতপ্রায় প্রকল্পটিতে প্রাণের সঞ্চার করা সম্ভব, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আসানসোলবাসীর আশা, এবার অন্তত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে প্রশাসন।





