২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, ততই তপ্ত হচ্ছে উত্তরবঙ্গের রাজনীতি। এবার কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোস-এর ওপর হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো গোটা জেলায়। অভিযোগ উঠেছে, বুধবার বিকেলে শুটকাবাড়ি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়েছিলেন তিনি, তখনই তাঁর কনভয়ে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগের তির সরাসরি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রথীন্দ্রনাথ বোস যখন দলীয় কর্মীদের নিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচার সারছিলেন, সেই সময় অতর্কিতে একদল যুবক ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তাঁর মিছিলে চড়াও হয়।
গাড়িতে ভাঙচুর: দুষ্কৃতীরা লাঠিসোঁটা ও ইট নিয়ে প্রার্থীর গাড়িতে আক্রমণ করে। হামলায় রথীন্দ্রনাথবাবুর গাড়ির কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
আহত কর্মীরা: আক্রমণ রুখতে গিয়ে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রথীন্দ্রনাথ বোসের অভিযোগ
ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি প্রার্থী। তিনি বলেন,
“তৃণমূল বুঝতে পেরেছে যে মানুষের সমর্থন তাঁদের পায়ের তলা থেকে সরে গিয়েছে। তাই ওরা ভয় পেয়ে এখন গুন্ডাবাহিনী দিয়ে আমার প্রচার আটকানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এই হামলা করে আমাদের জয় ঠেকানো যাবে না।”
তৃণমূলের পাল্টা দাবি
এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনো যোগ নেই বলে দাবি করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি, বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। রাজনৈতিক নাটক করে মানুষের সহানুভূতি পেতেই বিজেপি এই ধরনের অভিযোগ তুলছে।
কোচবিহারে বাড়তি নিরাপত্তা?
ভোটের মুখে প্রার্থীদের ওপর এই ধরনের হামলার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে গেরুয়া শিবির। ঘটনার পরেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রে শান্তি বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে কোচবিহারের এই অশান্ত চিত্র কি অবাধ ভোটের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে? উত্তরের সন্ধা থাকবে আগামী দিনগুলোতে।





