দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত গোলপার্ক ও কাঁকুলিয়া রোড এলাকা রবিবার রাতে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, বোমাবাজি আর মুহুর্মুহু গুলির শব্দে থমকে গিয়েছিল জনজীবন। আর এই গোটা ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে যাঁর নাম উঠে আসছে, তিনি হলেন বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’। কে এই ব্যক্তি? কেন পুলিশ তাঁকে ধরতে পারছে না, অথচ তিনি প্রকাশ্যেই ফেসবুক লাইভ করছেন? প্রশ্ন উঠেছে লালবাজারের ভূমিকা নিয়েও।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, সোনা পাপ্পু মূলত কসবা ও তোপসিয়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পরিবারের পুরনো সোনার ব্যবসার সুবাদেই ‘সোনা’ ডাকনামটি জোড়া হয়। একসময় দোকানের গদিতে বসলেও, ধীরে ধীরে অন্ধকার জগতের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি হয় তাঁর। ধীরে ধীরে কসবা, তিলজলা ও তোপসিয়া এলাকায় সিন্ডিকেট ও তোলাবাজির একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেন তিনি।
পাপ্পুর অপরাধের খতিয়ান বেশ দীর্ঘ:
-
২০১৫: বালিগঞ্জ রেল ইয়ার্ডে এলাকা দখল নিয়ে সংঘর্ষে প্রথম বড় নাম জড়ানো।
-
২০১৭: একটি খুনের মামলায় সরাসরি নাম ওঠে তাঁর, দায়ের হয় একাধিক এফআইআর।
-
২০২১: প্রেসিডেন্সি জেলের বাইরে ২৫ জন সঙ্গীকে নিয়ে প্রতিপক্ষ মুন্না পাণ্ডের উপর হামলার চেষ্টার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।
-
রেকর্ড: পুলিশের নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন থানায় তোলাবাজি ও হিংসার অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
পুলিশি সূত্রে খবর, ইদানীং রবীন্দ্র সরোবর ও লেক এলাকায় নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করতে চাইছিলেন পাপ্পু। সেই ‘এলাকা দখল’ থেকেই কাঁকুলিয়া রোডের এই তাণ্ডব। আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুর্ধর্ষ এই অপরাধী যখন গা ঢাকা দিয়েও ফেসবুক লাইভে এসে নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করছেন, তখন পুলিশের হাতে তাঁর হদিশ না থাকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক যোগসাজশের কারণেই কি অধরা এই ‘ত্রাস’? পুলিশ অবশ্য জানাচ্ছে, তদন্ত চলছে এবং খুব শীঘ্রই অভিযুক্তকে জালে তোলা হবে।