কে এই নীতিন নবীন? যাঁর হাতে ৪৩ বছর পর তুলে দেওয়া হচ্ছে পদ্মের ব্যাটন, জানুন পরিচয়

ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সাংগঠনিক নেতৃত্বে এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। সোমবারই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিহারের প্রভাবশালী নেতা নীতিন নবীন। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১:৩০ মিনিটে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করবেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও থাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং বিদায়ী সভাপতি জেপি নড্ডাসহ দলের শীর্ষ নের্তৃত্ব।

অচেনা মুখেই আস্থা কেন? নীতিন নবীনের এই উত্থান রাজনৈতিক মহলে বড় চমক। মাত্র ৪৫ বছর বয়সেই তিনি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের কাণ্ডারি হলেন। ১৯৮০ সালে বিজেপির জন্মের সময় জন্ম নেওয়া নীতিনই বর্তমানে দলের তরুণতম সভাপতি। দীর্ঘ ১৮ মাস পর জেপি নড্ডার উত্তরসূরি খুঁজে পেল গেরুয়া শিবির।

নীতিন নবীনের রাজনৈতিক জীবন: বিহারে নীতিন নবীন কোনো অপরিচিত নাম নয়। পটনার বিখ্যাত নেতা তথা চারবারের বিধায়ক কিশোর প্রসাদ সিনহার ছেলে নীতিন ছোটবেলা থেকেই আরএসএসের আদর্শে বড় হয়েছেন। বাবার অকালপ্রয়াণের পর ২০০৬ সালে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন এবং পটনার বাঁকিপুর আসন থেকে টানা ৫ বার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৫-এর নির্বাচনে ৫১ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় তাঁর জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়।

কেন তাঁকে বেছে নিলেন মোদী-শাহ? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নীতিন নবীনের নির্বাচনের পিছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে:

  • আরএসএস ঘনিষ্ঠতা: আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। দলের ওপর সঙ্ঘের নিয়ন্ত্রণ ও আদর্শ বজায় রাখতে নীতিন এক নির্ভরযোগ্য নাম।

  • সাংগঠনিক দক্ষতা: ছত্তিশগড় বিধানসভা নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে এবং বিহারে নীতীশ কুমারের দলের সঙ্গে জোটের সমন্বয় রক্ষায় তিনি ‘লেটার মার্কস’ পেয়েছেন।

  • নির্ভরযোগ্যতা: মোদী-শাহ জুটির একান্ত অনুগত হিসেবে পরিচিত নীতিন। কোনো বড় বিতর্ক বা কোন্দলে না থাকা এই নেতাকে সভাপতি করে দল আসলে হাইকমান্ডের রাশ শক্ত রাখতে চাইছে বলেই অনেকের ধারণা।

আজকের এই রাজকীয় অভিষেকের পর আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন রাজ্যের সাংগঠনিক রদবদলের কঠিন চ্যালেঞ্জ এখন এই তরুণ নেতার কাঁধেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy