কেষ্ট বনাম কাজল অনুগামীদের সংঘর্ষে উত্তপ্ত সিউড়ির গোপালপুর, আটক ৪

বীরভূমের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই শাসকদলের অভ্যন্তরে সমান্তরাল দুটি গোষ্ঠীর রেষারেষি ছিল চাপা গুঞ্জন। একপক্ষ অনুব্রত মণ্ডলকে এবং অপর পক্ষ কাজল শেখকে সমর্থন করে। কিন্তু এবার আর বাদানুবাদ নয়, সোমবার সকালে সেই রেষারেষি সরাসরি ভয়াবহ গোষ্ঠী সংঘর্ষে রূপ নিল। তৃণমূলের এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে উঠল সিউড়ির ২ নম্বর ব্লকের গোপালপুর গ্রাম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চার জনকে আটক করা হয়েছে।
কী নিয়ে শুরু হল সংঘর্ষ?
গোপালপুর গ্রামের এক পক্ষ অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামী এবং অন্য পক্ষ কাজল শেখের অনুগামী। একাধিক ইস্যুতে তাঁদের মধ্যে এর আগেও ছোটখাটো ঝামেলা হয়েছে। সোমবার সকালে সেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
- সূত্রপাত: জানা যাচ্ছে, গ্রামের রাস্তাতেই দুই গোষ্ঠীর অনুগামীদের মধ্যে কটূক্তি করা নিয়ে বচসার সূত্রপাত।
- হামলার ধরন: বচসা দ্রুত সংঘর্ষে পরিণত হয়। প্রথমে রাস্তায় পড়ে থাকা ইটের টুকরো ছুড়তে থাকে একে অপরের দিকে। এরপর দুই পক্ষের বহু অনুগামী জড়ো হয়ে বাঁশ, লাঠি, লোহার রড নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা শুরু করে।
- নজিরবিহীন ভাঙচুর: এলাকায় চলতে থাকে বেপরোয়া ইটবৃষ্টি। সংঘর্ষের সময় গ্রামের একাধিক বাড়িতে ভাঙচুরও করা হয়।
আতঙ্কে এলাকাবাসী
সংঘর্ষের সময় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রামের সাধারণ মানুষ। হামলার মুখে পড়া এক বয়স্ক মহিলা, যাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে, তিনি বলেন, “আমি বাড়ির ভিতর রান্না করছিলাম। হঠাৎ বাইরে চিৎকার চেঁচামেচি। তারপর শুনতে পাই, আমার বাড়ির বাইরে দরজা লাঠি দিয়ে বেদম পেটানো হচ্ছে। বেধড়ক মারে দরজার একপাশ ভেঙে গিয়েছে। ইটও ছোড়া হয়। কিন্তু কী থেকে কী হয়েছে, কিছুই বলতে পারব না।”
আরেক মহিলা অবশ্য বলেন, “টোন কাটাকাটি নিয়েই ঝামেলা হচ্ছিল শুনেছি। কিন্তু তা থেকেই যে কত বড় হয়ে গেল, কী বলব।”
আটক চার জন, পুলিশের ভূমিকা
এই ঘটনায় পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এখনও পর্যন্ত চার জনকে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হতভম্ব হয়ে বলেন, “বুঝতে পারছি না, আমায় কেন তুলে নিল, আমি তো দোকান খুলতে গিয়েছিলাম। দোকান খুলছিলাম, আমাকে তুলে নিল।”
বীরভূমের মাটিতে এই ঘটনা ফের একবার শাসকদলের মধ্যেকার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চিত্রকে খোলা ময়দানে নিয়ে এল।