কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘বাংলাকে ভাতে মারার’ মারাত্মক অভিযোগ, কেন সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী?

উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং একের পর এক মৃত্যুর ঘটনার পর এবার সেই দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে তিন দিনের সফরে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরকন্যা থেকে পর্যালোচনা বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী একদিকে যেমন দ্রুততার সঙ্গে রাজ্য সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজের রিপোর্ট দিলেন, তেমনই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘বাংলাকে ভাতে মারার চেষ্টার’ পুরোনো অভিযোগেও ফের সরব হলেন।
১. কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘বঞ্চনার’ অভিযোগ
পর্যালোচনা বৈঠকের শুরুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি বলেন, “বাংলাকে ভাতে মারার চেষ্টা করছে কেন্দ্র।” প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এবং তার পরেও কেন্দ্র রাজ্যের প্রতি সহায়তার ক্ষেত্রে কতটা বঞ্চনা করেছে, সেই বিষয়টিই তিনি আরও একবার তুলে ধরেন।
২. রাজ্য সরকারের দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন
প্রশাসনের কপালে যখন দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তার ভাঁজ, তখন মুখ্যমন্ত্রী দ্রুততার সঙ্গে পুনর্বাসনমূলক কাজের রিপোর্ট দিলেন:
- ক্ষতিপূরণ: গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলির জন্য সব জেলা মিলিয়ে ১৪ হাজার ৭৯৪টি পরিবারকে মোট ১৬১ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা দেওয়া হচ্ছে। এই টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিবারগুলি পেয়ে যাবে।
- চাকরি ও অর্থ: মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা কথা দিয়ে গিয়েছিলাম চাকরি দেব, ৫ লক্ষ টাকা করে দেব। সেটা আমরা দিয়ে দিয়েছি।”
- রাস্তা ও ব্রিজ: মিরিকে একটি পাকা ব্রিজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং অন্যান্য রাস্তার কাজও চলছে।
- কৃষি সহায়তা: বন্যা কবলিত ১ লক্ষ ৩৭ হাজার কৃষকদের মধ্যে ফসলের বীজ, কৃষি উপকরণও বিতরণ করা হল। এর জন্য ১০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।
- জমির সার্ভে: কৃষি জমিগুলির সার্ভে হচ্ছে। সার্ভে হয়ে যাওয়ার পরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা শস্য বিমা পাবে।
- আর্থিক সহায়তা: কৃষি জমি পুনরায় চাষযোগ্য করার জন্য জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের ৮০৭ জন কৃষককে ৪৭ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী তিন দিনের সফরে থাকাকালীন দ্রুততার সঙ্গে সব কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।