কেরিয়ার জলাঞ্জলি দিয়ে হাসিমুখে ঘরকুনো! স্ত্রীর সাফল্যের জন্য মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের বড় আত্মত্যাগ

সমাজ আমাদের শিখিয়েছে পুরুষ মানেই পরিবারের রোজগেরে সদস্য, আর নারী মানেই অন্দরমহলের রানী। কিন্তু এই চেনা ছক ভেঙে দিয়েছেন পেশায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নীলয় (নাম পরিবর্তিত)। স্ত্রীর উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর উজ্জ্বল ক্যারিয়ারকে পূর্ণতা দিতে নিজের মোটা মাইনের চাকরি হাসিমুখে ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। আজ তিনি কোনো কারখানার যন্ত্র সামলান না, বরং সামলান নিজের একরত্তি সন্তান আর সংসার।

নীলয়ের স্ত্রী একটি বহুজাতিক সংস্থার উচ্চপদে কর্মরত। সন্তানের জন্মের পর যখন আয়া বা ডে-কেয়ারের ওপর ভরসা করা কঠিন হয়ে পড়ছিল, তখনই নীলয় নিলেন জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত। তিনি চাইলেন না তাঁর স্ত্রীর দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের কেরিয়ার অঙ্কুরেই শেষ হয়ে যাক। তাই সজ্ঞানেই নীলয় বেছে নিলেন ‘হাউস হাজব্যান্ড’-এর ভূমিকা। সকালে স্ত্রীর টিফিন গুছিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে বাচ্চার পড়াশোনা—সবটাই এখন নীলয়ের রুটিন।

শুরুতে আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের কাছ থেকে নানা বাঁকা কথা শুনতে হয়েছে তাঁকে। “একজন ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বাড়িতে বসে থাকবে?”—এমন প্রশ্নেও দমে যাননি নীলয়। তাঁর মতে, সংসার চালানো একটা বড় টিম-ওয়ার্ক। কেউ বাইরে পরিশ্রম করবে, কেউ ঘরের ভিত মজবুত রাখবে। এই আধুনিক মানসিকতা আজ বহু মানুষের চোখ খুলে দিচ্ছে। নীলয় প্রমাণ করেছেন, পৌরুষ মানে কেবল টাকা রোজগার নয়, বরং প্রিয়জনের স্বপ্নকে ডানা মেলতে সাহায্য করার নামই আসল বীরত্ব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy