২০২৬-এর কেরালা বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক অদ্ভুত উভয়সঙ্কটে পড়েছে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। কেরালায় এলডিএফ (LDF)-কে ক্ষমতাচ্যুত করতে মরিয়া কংগ্রেসের অন্দরে এখন সবচেয়ে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন?’ এই প্রশ্নটি। এআইসিসি সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধী চাইছেন আগেভাগে কোনো মুখ ঘোষণা না করেই নির্বাচনে লড়তে। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদারের সংখ্যা এতটাই বেশি যে, একজনের নাম ঘোষণা করলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আগুনে পুড়ে যেতে পারে গোটা প্রচার অভিযান।
কেরালা কংগ্রেসে বর্তমানে তিনটি শক্তিশালী গোষ্ঠী সক্রিয়। একদিকে রয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমেন চান্ডির উত্তরসূরিরা, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা ভি ডি সাথীসান এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কে সুধাকরণ। এছাড়াও শশী থারুরের মতো হেভিওয়েট নেতার জনপ্রিয়তাকেও উপেক্ষা করার জায়গা নেই। থারুর সমর্থকরা চাইছেন তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরা হোক, কিন্তু স্থানীয় নেতারা তাতে নারাজ। এই পরিস্থিতিতে খাড়গে এবং রাহুল মনে করছেন, এখনই কারও নাম ঘোষণা করা মানে বাকি গোষ্ঠীর বিরাগভাজন হওয়া।
হাইকম্যান্ডের এক সূত্র জানাচ্ছে, কর্ণাটক মডেলে যৌথ নেতৃত্বের ভিত্তিতেই কেরালায় ভোট লড়া হবে। ভোটের পর বিধায়কদের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে নীচুতলার কর্মীদের আশঙ্কা, স্পষ্ট কোনো মুখ না থাকায় ভোটারদের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে। বিশেষ করে যেখানে পিনারাই বিজয়নের মতো শক্তিশালী বাম নেতৃত্ব রয়েছে, সেখানে কংগ্রেসের এই ‘মুখ’ লুকানোর নীতি বুমেরাং হবে না তো? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে তিরুবনন্তপুরমের রাজনৈতিক অলিন্দে।