দিল্লির রাজনীতিতে এই মুহূর্তে অন্যতম আলোচিত নাম রাঘব চাড্ডা। সংসদ ভবন হোক বা সংবাদমাধ্যম— আম আদমি পার্টির (AAP) এই তরুণ তুর্কির বক্তব্য মানেই তথ্যের কাটাছেঁড়া আর শাণিত যুক্তি। কেন কেন্দ্রীয় সরকারের হেভিওয়েট মন্ত্রীরাও রাঘবের কথা এত গুরুত্ব দিয়ে শোনেন? তাঁর এই তুখোড় বাগ্মিতার নেপথ্যে রয়েছে এক ঈর্ষণীয় শিক্ষাগত প্রোফাইল। ২০২৬-এর রাজনীতির আবহে ফের চর্চায় উঠে এসেছে রাঘব চাড্ডার ডিগ্রির খতিয়ান।
অ্যাকাডেমিক কেরিয়ার ও উচ্চশিক্ষা: রাঘব চাড্ডা কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তাঁর পড়াশোনার জগৎটা বেশ সমৃদ্ধ। দিল্লির মডার্ন স্কুলে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি পাড়ি জমান উচ্চশিক্ষার পথে:
চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA): রাঘব একজন পেশাদার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। ভারতের অত্যন্ত কঠিন এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি প্র্যাকটিসও করেছেন। তাঁর আর্থিক বিশ্লেষণের ক্ষমতার মূলে রয়েছে এই বিশেষ ডিগ্রি।
লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স (LSE): বিদেশের নামী প্রতিষ্ঠান লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স থেকে তিনি উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। বিশ্ব অর্থনীতির পাঠ তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়: ভারতের এই মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
কেন তাঁর বক্তব্য এত ওজনদার? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাঘব চাড্ডা যখন সংসদে অর্থনীতি বা বাজেট নিয়ে সরব হন, তখন তাঁর যুক্তিতে থাকে সিএ (CA) সুলভ নিখুঁত হিসেব। তিনি তথ্য ও পরিসংখ্যানে ভুল করেন না বললেই চলে। এই গভীর পাণ্ডিত্যের কারণেই সরকার পক্ষকে বারবার তাঁর প্রশ্নের মুখে রক্ষণাত্মক মেজাজে দেখা যায়।
সাফল্যের নেপথ্যে ‘সিদ্ধি’: খুব অল্প বয়সেই রাজ্যসভার সাংসদ হওয়া থেকে শুরু করে দলের জাতীয় মুখপাত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা— রাঘবের এই ‘সিদ্ধি’ বা সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা নিয়েছে তাঁর শিক্ষার মান। গ্ল্যামারাস চেহারার আড়ালে থাকা এই মেধাবী ছাত্রটিই এখন অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অন্যতম ভরসাযোগ্য সেনাপতি।
দিল্লির রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যায়, রাঘব চাড্ডা হলেন আধুনিক রাজনীতির সেই উদাহরণ, যেখানে মেধা আর কৌশলের মিশেলে পুরনো ধাঁচের রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব।





