কেন মমতার বৈঠক এড়িয়ে চললেন তৃণমূলের কাউন্সিলররা? কালীঘাটের সিদ্ধান্তে তৈরি হলো ধোঁয়াশা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে এই ঘটনাকে ঘিরে যে অসন্তোষের সুর বেজে উঠেছে, তা আজ কার্যত দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেল। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে কাউন্সিলরদের একটি বড় অংশের অনুপস্থিত থাকার সিদ্ধান্তের জেরে শেষ পর্যন্ত বৈঠকটি বাতিল করতে বাধ্য হন শীর্ষ নেতৃত্ব।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যের শাসক দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর, আমন্ত্রিত কাউন্সিলরদের প্রায় অর্ধেক সংখ্যক প্রতিনিধিই এই বৈঠকে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অনুপস্থিতদের তালিকায় অরূপ চক্রবর্তী, দেবলীনা বিশ্বাস, লিপিকা মান্না এবং সুদর্শনা মুখোপাধ্যায়ের মতো প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের নাম উঠে আসায় অস্বস্তিতে পড়েছে দল। কেন দলের এত গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধিরা এই বৈঠক এড়িয়ে চললেন, তা নিয়ে দলের অন্দরে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

সূত্রের খবর, এই গণ-অনুপস্থিতির বিষয়টি কালীঘাটে পৌঁছাতেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। কোন পরিস্থিতিতে এত বড় সংখ্যক জনপ্রতিনিধি দলীয় নির্দেশ অমান্য করার সাহস দেখালেন, তা নিয়ে দ্রুত ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। বৈঠকের ঠিক আগে কাউন্সিলরদের এই অনীহা ও বিদ্রোহী মনোভাব বুঝতে পেরেই শীর্ষ নেতৃত্ব পরিস্থিতি আর জটিল না করার কৌশল নেন এবং তড়িঘড়ি বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

তবে এই বৈঠক বাতিল হওয়ার নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। দলের মুখপাত্ররা এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। যদিও দলীয় অন্দরমহলে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। অনেকেই মনে করছেন, সম্প্রতি দলের সাংগঠনিক রদবদল বা কোনো বিশেষ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে কাউন্সিলরদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। আবার অন্য একটি অংশের মতে, এটি কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেরই বহিঃপ্রকাশ।

তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের এই শৃঙ্খলার প্রাচীরে কি তাহলে ফাটল ধরল? গত কয়েক বছরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে যেভাবে তৃণমূলের কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে, তাতে হুট করে এমন বিদ্রোহের ঘটনা শাসক দলের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অরূপ চক্রবর্তী বা দেবলীনা বিশ্বাসের মতো নেতারা কেন এই অবস্থান নিলেন, তা নিয়ে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বও কোনো সদুত্তর দিতে পারছেন না।

রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেত্রী যখন স্বয়ং বৈঠক ডাকেন, তখন সেখানে অনুপস্থিত থাকা মানে তো সরাসরি নেতৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানানো। বিরোধীরা এই পরিস্থিতিকে ‘তৃণমূলের শেষের শুরু’ বলে কটাক্ষ করতেও ছাড়েনি। তবে তৃণমূলের অন্দরের অংকের হিসেবে, এই ঘটনা ভবিষ্যতে বড় কোনো সাংগঠনিক ভাঙনের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা জল্পনা। এখন দেখার বিষয়, কালীঘাট এই ক্ষোভ দানা বেঁধে থাকা কাউন্সিলরদের সামলাতে কী পদক্ষেপ নেয় এবং পরবর্তী বৈঠকে তারা উপস্থিত থাকেন কি না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy