কেন বিষ খেয়ে মরতে চেয়েছিলেন আশা ভোঁসলে? দিদি লতার সঙ্গে বিচ্ছেদের সেই ভয়ংকর কাহিনী!

ভারতীয় সংগীত জগতের কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে। যাঁর সুরেলা কণ্ঠে মুগ্ধ গোটা বিশ্ব, তাঁর জীবনের নেপথ্যে লুকিয়ে ছিল চরম অন্ধকার এবং একাকীত্ব। সম্প্রতি এক বিস্ফোরক তথ্যে জানা গিয়েছে, জীবনের এক কঠিন সময়ে চরম অবসাদে ডুবে গিয়েছিলেন তিনি, এমনকি বেছে নিতে চেয়েছিলেন আত্মহত্যার পথও। শুধু তাই নয়, নিজের দিদি তথা সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছিল।

আশা ভোঁসলের ব্যক্তিগত জীবন ছিল কণ্টকাকীর্ণ। মাত্র ১৬ বছর বয়সে লতা মঙ্গেশকরের ব্যক্তিগত সচিব গণপত রাও ভোঁসলের প্রেমে পড়ে পরিবার ছেড়ে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন তিনি। এই সিদ্ধান্তই লতা ও আশার মধ্যে এক বিশাল প্রাচীর তৈরি করে দিয়েছিল। লতা এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি, যার ফলে দীর্ঘ সময় দুই বোনের মুখ দেখাদেখি বন্ধ ছিল। কিন্তু সেই দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি। শ্বশুরবাড়িতে চরম লাঞ্ছনা ও মানসিক অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছিল আশাকে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।

সেই সময় চরম অর্থকষ্ট এবং মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেছিলেন শিল্পী। জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে তিনি একাধিকবার আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে সেই যন্ত্রণার কথা মনে করে তিনি জানিয়েছিলেন, সেই দিনগুলোতে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাটাই ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে শেষ পর্যন্ত সংগীতকেই তিনি বাঁচার রসদ হিসেবে বেছে নেন। পরবর্তীকালে লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বরফ গললেও, তাঁদের শৈশব এবং যৌবনের সেই সংঘাতের রেশ আজও বলিপাড়ার ইতিহাসের পাতায় ট্র্যাজেডি হিসেবে রয়ে গিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy