কৃষ্ণ নাকি সোজা হয়ে দাঁড়াতেই পারেন না! বাগেশ্বর বাবার চরম বিতর্কিত মন্তব্যে তুচ্ছতাচ্ছিল্য কাকে?

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শারীরিক গঠন, দাঁড়ানোর দেহভঙ্গি এবং তাঁর পবিত্র বাঁশি বাজানোর মাহাত্ম্য নিয়ে চরম বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবা। শিবপুরী জেলার কারেরাতে আয়োজিত এক ধর্মীয় ‘রাম কথা’ অনুষ্ঠানে ভগবান শ্রীরাম ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের স্বভাব ও আচরণের তুলনা টানতে গিয়েই এই আগুনের সূচনা। অযোধ্যা ও বৃন্দাবনের তুলনা টেনে কৃষ্ণের পবিত্র বাঁশি বাজানোকে স্রেফ ‘বিনোদনের খেলা’ বলে দাবি করেন তিনি।
ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে স্পষ্ট বলতে শোনা যায়, “আপনাদের ঠাকুরজি তো প্রতি ছবিতে এদিক-ওদিক তাকিয়ে থাকেন। তিনি ঠিক করে সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারেন না, তিন জায়গায় বাঁকা হয়ে থাকেন। পা আড়াআড়ি, কোমর একপাশে বাঁকা আর ঘাড় বেঁকিয়ে উনি বাঁশি বাজান।” এরপরই রামের প্রশংসা করতে গিয়ে কৃষ্ণকে খাটো করে তিনি যোগ করেন, “আমাদের রাম তো একেবারে সোজা হয়ে দাঁড়ান। তাঁর নাম সোজা, দৃষ্টি সোজা, চলনও সোজা। আর আপনাদের কৃষ্ণ পুরোপুরি বাঁকা—তিনি বাঁকা হয়ে তাকান এবং বাঁকা পথেই চলেন।” মঞ্চের এক সাধারণ বাঁশিবাদকের দিকে আঙুল তুলে বাগেশ্বর বাবা আরও দাবি করেন, “বাঁশি বাজানো তো স্রেফ একটা খেলা, কিন্তু ধনুক চালানো কোনো খেলা নয়। আপনাদের ঠাকুরজির বাঁশি বাজানোয় বিশেষ কিছু নেই, মঞ্চের যে কেউ তো বাজাতে পারে!”
এই ভিডিও ভাইরাল হতেই মথুরা ও ব্রজমণ্ডলের ধর্মীয় পণ্ডিত ও সাধুসন্তদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। তাঁদের সাফ কথা, দুই অবতারের মধ্যে এই ধরনের কুরুচিকর তুলনা ভক্তদের মনে চরম আঘাত এনেছে। বিতর্ক দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাকফুটে গিয়ে সুর নরম করেন বাগেশ্বর বাবা। তিনি দাবি করেন, একটি ভক্তিমূলক শ্লোকের প্রসঙ্গের বাইরে গিয়ে কথাগুলো কাটা ছেঁড়া করে ভুলভাবে ছড়ানো হয়েছে।
নিজের সাফাইতে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বলেন, “আমি শ্রীকৃষ্ণের বিরোধী নই, তিনি আমাদের আরাধ্য ঠাকুরজি। আমরা নিজেরাই তো কৃষ্ণ জন্মভূমির পক্ষে বারবার আওয়াজ তুলেছি। তাঁর নামেই আমার পরিচয়। আমি তো নিজেকে ব্রজ ঐতিহ্যের অংশ বলেই মনে করি। যদি আমার কথায় কোনো ভক্তের মনে কষ্ট লেগে থাকে, তবে আমি বিনম্রভাবে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।”