‘আরশোলা, গিরগিটিদের উসকে দিয়ে গণতন্ত্র ভাঙার চেষ্টা!’ হুঙ্কার দিয়ে কাকে নিশানা করলেন সুকান্ত?

উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে শিলিগুড়িতে আয়োজিত বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি থেকে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। সংবিধান ও গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে বিপন্ন করার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করে তিনি সরাসরি বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেন। এদিন সকালে কলকাতা থেকে পদাতিক এক্সপ্রেসে চেপে নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) স্টেশনে পৌঁছান সুকান্ত মজুমদার। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ ও স্থানীয় নেতৃত্ব। ‘বাঘাযতীন পার্ক চলো’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই বিশাল মহামিছিল হিলকার্ট রোড পরিক্রমা করে মহাত্মা গান্ধি চকে গিয়ে শেষ হয়। নির্ভুল ভোটার তালিকা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার দাবিতে দলের এই কর্মসূচিতে কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত মজুমদার দেশের বিরোধী দলগুলির ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, বিজেপি অতীতে দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত সফলভাবে বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ যখন লাগাতার উন্নয়ন ও জিডিপি বৃদ্ধির পথে এগোচ্ছে, তখন তা সহ্য করতে পারছে না প্রতিপক্ষ। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক রিপোর্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, দেশে প্রায় ৫০ কোটি মানুষকে দারিদ্রসীমার ওপরে তুলে আনা হয়েছে। এই সাফল্য সহ্য করতে না পেরে বিরোধীরা দেশে অরাজকতা বা অ্যানার্কি তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সুকান্তর কটাক্ষ, দেশের এই গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে ভেঙে দেওয়ার জন্য কিছু রাজনৈতিক শক্তি তাদের অনুগামীদের উসকে দিচ্ছে এবং বিজেপি তার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক জাতীয় সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অত্যন্ত কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে মনে করিয়ে দেন যে, জাতীয় সড়ক অবরোধ করা একটি সম্পূর্ণ জামিন অযোগ্য অপরাধ। এই প্রসঙ্গে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “এই ধরনের দুরভিসন্ধিমূলক চিন্তা করবেন না। বাবরের চক্রে পড়লে এরকম চিন্তাই মাথায় আসে, তাই বাবর থেকে বেরিয়ে এসে নিজের বাবার প্রতি দায়বদ্ধ হওয়াই ভালো।” প্রয়োজনে তিনি ‘বাবর’-এর নাম বাদ দিয়ে নিজের বাবার নামে মসজিদ তৈরি করার পরামর্শও দেন।

রাজ্যের সাম্প্রতিক বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অবনতির চিত্র তুলে ধরে মেটিয়াবুরুজের গণধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে সুকান্ত জানান, পুলিশ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়। এছাড়া ডেবরায় বিজেপির বিধায়ক সুভাশিস ভৌমিকের উপর হামলার ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। শাসকদলের মদতে চলা তোলাবাজি ও নৈরাজ্য যে আর বরদাস্ত করা হবে না, সে বিষয়েও তিনি কঠোর হুঙ্কার দেন। আসন্ন পুরসভা নির্বাচন এবং রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সুকান্ত আশাবাদী যে, সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ব্যালট বাক্সে দেখা যাবে। এছাড়া কেদারনাথে নিখোঁজ হওয়া পর্যটক ও ট্রেকারদের উদ্ধারে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সবরকম সহায়তা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।