মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ তো নেই-ই, উল্টে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটিয়ে বড়সড় ‘ইউ টার্ন’ নিল ইরান। আন্তর্জাতিক মহলের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে প্রতিবেশীদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে তেহরান। এবার তাদের নিশানায় সরাসরি কুয়েত। সাম্প্রতিকতম খবরে জানা গেছে, ইরানের হামলায় দাউ দাউ করে জ্বলছে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এই নজিরবিহীন হামলায় স্তব্ধ কুয়েতের বিমান পরিষেবা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, আচমকাই কুয়েত বিমানবন্দরের রানওয়ে ও টার্মিনাল লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অংশে। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। হামলার সময় বিমানবন্দরে থাকা যাত্রী ও কর্মীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন সবাই। প্রাথমিক খবরে বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদিও কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও সরকারিভাবে কোনো পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে এবং আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড়সড় বদল আনতে পারে। দিনকয়েক আগেই ইরানের পক্ষ থেকে সুর নরম করার বা আলোচনার ইঙ্গিত মিলেছিল, যাকে কূটনৈতিক মহলে ‘ইউ টার্ন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু কুয়েত বিমানবন্দরের মতো অসামরিক এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় এই হামলা ইরানের আগ্রাসী মনোভাবকেই পুনরায় স্পষ্ট করল। বিশেষ করে যখন সৌদি আরব সহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে, তখন কুয়েতকে টার্গেট করা রণকৌশলের অংশ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কুয়েতের পাশে দাঁড়িয়ে আমেরিকা বা অন্যান্য পশ্চিমী শক্তি কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার। ইতিমধ্যেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। ইরান যদি প্রতিবেশীদের ওপর এই ধরনের হামলা না থামায়, তবে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কূটনৈতিকরা।