কুয়েতে ইরানপন্থী স্লোগান দিয়ে চরম বিপদ! নাগরিকত্ব হারালেন কয়েকশো মানুষ, ভারতের আইন কী বলছে?

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইরানের ড্রোন হামলায় যখন কুয়েতের আকাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, তখন এক নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ নিল সে দেশের প্রশাসন। হামলার পর প্রকাশ্য রাস্তায় ইরানপন্থী স্লোগান দেওয়া এবং শত্রু দেশকে সমর্থন করার অভিযোগে কয়েকশো মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল করল কুয়েত সরকার। কেবল নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়াই নয়, তাঁদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে এবং প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—এমন ঘটনা ভারতে ঘটলে দেশের আইন কী বলত?

কুয়েতের রাজতান্ত্রিক কাঠামোয় ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ বা ‘জাতীয় সংঘাতের’ সময় শত্রু দেশকে সমর্থন করাকে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। সেখানে আমিরি ডিক্রি বা বিশেষ নির্দেশে নাগরিকত্ব বাতিল করা জলভাত। কিন্তু ভারতের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভারতের সংবিধান এবং ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন (Citizenship Act) অনুযায়ী, কোনো ভারতীয় নাগরিকের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিকদের নাগরিকত্ব সচরাচর বাতিল করা যায় না। তবে কেউ যদি অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন বা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নাগরিকত্ব পান, তবেই তা বাতিল হতে পারে।

ভারতে ‘দেশদ্রোহিতা’ বা ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার জন্য ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (আগে যা আইপিসি ছিল) অনুযায়ী জেল বা জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু কেবল স্লোগান দেওয়ার জন্য কারও পাসপোর্ট বাতিল বা নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার কোনো সাংবিধানিক সংস্থান নেই। কারণ ভারতীয় গণতন্ত্রে ‘বাক-স্বাধীনতা’ মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য হয়, যদিও তার ওপর কিছু যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ রয়েছে। কুয়েতের এই কঠোর পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির এক প্রতিফলন, যা ভারতের মতো গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় কার্যত অসম্ভব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy