কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাস্তায় ফেলে মারধর! নৈহাটির বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ!

মহিলাকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার প্রতিবাদ করায় এবং সেই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করার জেরে তাঁকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করার এক গুরুতর অভিযোগ উঠল নৈহাটি ৩ নম্বর মণ্ডলের এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি এলাকা। রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।
পুলিশ এবং অভিযোগকারিণী সূত্রে প্রাপ্ত বিস্তারিত বিবরণে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে গভীর রাতে। অভিযোগকারিণীর দাবি, ওই দিন গভীর রাতে তাঁকে লক্ষ্য করে কুরুচিকর কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সাহসিকতার সঙ্গে সেই কুপ্রস্তাব সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার পরই সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি পরদিনই সোজা জেটিয়া থানায় গিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
কিন্তু অভিযোগকারিণী থানার দ্বারস্থ হওয়ার পরও অভিযুক্ত বিজেপি নেতার বেপরোয়া ও হুমকিদাতা স্বভাব বিন্দুমাত্র কমেনি বলে অভিযোগ। পুলিশের কাছে দায়ের করা সেই মামলা ও অভিযোগ অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য ওই মহিলার ওপর লাগাতার ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করা শুরু হয়। কিন্তু নির্যাতিতা মহিলা সেই অনৈতিক চাপে নতিস্বীকার করতে বা অভিযোগ তুলে নিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। আর এর জেরে সম্প্রতি এক অন্ধকার রাস্তায় তাঁকে একা পেয়ে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। মারধরের এই ঘটনার পরেই চরম আতঙ্কিত ও অসহায় অবস্থায় ওই মহিলা পুনরায় জেটিয়া থানার দ্বারস্থ হয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, এই সমস্ত বিস্ফোরক অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিজেপি নেতা। তাঁর স্পষ্ট দাবি, এই ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গেই তাঁর বিন্দুমাত্র কোনো যোগ নেই এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ঘটনায় স্থানীয় স্তরের বিজেপি নেতাদের নাম জড়ানো নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দিনকয়েক আগেই কলকাতার বালিগঞ্জের একটি বিখ্যাত মিষ্টির দোকানে এক বিজেপি যুব নেতার গুন্ডাগিরি ও হুমকির ছবি সিসিটিভিতে সামনে এসেছিল। আবার এর পাশাপাশি কোচবিহারের তুফানগঞ্জেও তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এক দাপুটে বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বারবার দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে কড়া বার্তা দেওয়া সত্ত্বেও নিচুতলার কিছু নেতার এমন বিতর্কিত আচরণ এবং মহিলাদের ওপর এই ধরনের ক্রমবর্ধমান আক্রমণ রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, এ ধরনের দাদাগিরি ও হুমকি-ধমকি কি আইন-শৃঙ্খলার পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে না? আপাতত জেটিয়া থানার পুলিশ এই অভিযোগের ভিত্তিতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে এবং পুলিশ পরবর্তী কী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেটাই দেখার।