কুখ্যাত লস্কর জঙ্গি হাসিম মুসা নিকেশ! বুদগামে নিরাপত্তা বাহিনীর বড়সড় সফলতায় উদ্ধার বিপুল অস্ত্র

জম্মু ও কাশ্মীরের বদগাম জেলার পালময়দান এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে চলা তীব্র সংঘর্ষে নিকেশ হয়েছে এক পাকিস্তানি লস্কর-ই-তৈবা (LeT) জঙ্গি। নিহত জঙ্গির নাম মহম্মদ আসিফ ওরফে হাসিম মুসা। তার কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও যুদ্ধাস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এই সাফল্যের খবর নিশ্চিত করে শ্রীনগরের চিনার কর্পস জানিয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী এই অভিযান চালিয়েছে।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে নিরাপত্তা বাহিনী এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে ইউসমার্গ এলাকায় ‘অপারেশন কোরাগ’ (OP KORAG) শুরু করে। তল্লাশি অভিযান চলার সময় সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে জওয়ানরা। জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেওয়া হলে তারা উলটে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। এরপরই দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়, যার জেরে খতম হয় কুখ্যাত লস্কর জঙ্গি হাসিম মুসা।
নিরাপত্তা বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হাসিম মুসা ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিগত ২০২৫ সালে পহেলগামে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটক প্রাণ হারিয়েছিলেন, যার অন্যতম প্রধান মাস্টারমাইন্ড ছিল এই পাকিস্তানি জঙ্গি। ওই নৃশংস হামলার পরেই জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের পক্ষ থেকে তিন পাকিস্তানি লস্কর জঙ্গি— আদিল হুসেন ঠোকর, আলি ভাই এবং হাসিম মুসার সন্ধান দাতাদের জন্য ২০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। গোয়েন্দা সূত্রে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে, একসময় পাকিস্তানের স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের (SSG) প্যারা-কমান্ডো হিসেবে কাজ করত এই মুসা।
এদিকে, পহেলগাম হামলা মামলায় ইতিমধ্যে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) সাতজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছে। ১৫৯৭ পাতার সেই চার্জশিটে পাকিস্তান-ভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা এবং তাদেরই প্রক্সি সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)-এর নাম স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এই ভয়াবহ হামলার মূল ছক কষা এবং তা সফল করার নেপথ্যে পাকিস্তানের সরাসরি মদতের কথা বিশদে তুলে ধরেছে এনআইএ। চার্জশিটে পাকিস্তানি হ্যান্ডলার সাজিদ জাটকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মৃতদেহ ও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাটি মূলত চলমান বিশাল তল্লাশি অভিযানেরই একটি অংশ। ওই এলাকায় অন্য কোনো জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে কি না বা আরও কোনো অস্ত্রশস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে গোটা এলাকা ঘিরে রেখে চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী।