পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরেই রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে শুরু হয়েছে চরম জল্পনা। রাজ্যের প্রায় ৬০ লক্ষাধিক ভোটারের নাম বর্তমানে ‘বিচারাধীন’ তালিকায় আটকে থাকায় তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ওপর।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর থেকে চলা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নথি যাচাই-বাছাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে বিচারাধীন ভোটারের এই সংখ্যা নজিরবিহীন। ইতিমধ্যে প্রায় ১৬ লক্ষ নথির যাচাই শেষ হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ আবেদনই অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে।
যাঁদের আবেদন বাতিল হয়েছে, তাঁদের ভাগ্য নির্ধারণে কলকাতা হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে একটি বিশেষ আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে এই ট্রাইব্যুনাল কবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। এদিকে, দুই দফার নির্বাচনে মনোনয়ন জমার শেষ তারিখ যথাক্রমে ৬ ও ৯ এপ্রিল। হাতে সময় মাত্র কয়েক সপ্তাহ। এই স্বল্প সময়ে বাকি ৪৪ লক্ষাধিক ভোটারের নথির নিষ্পত্তি আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে সন্দিহান সব মহল।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ভোটার থাকলেও, চূড়ান্ত তালিকায় সেই সংখ্যা ৬ কোটি ৪৪ লক্ষে নেমে এসেছে। এখন আগামী ২৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে রয়েছে নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলো। আদালতের রায়ই নির্ধারণ করবে বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার।