কিয়েভে নরক গুলজার! পুতিনের ‘ওরেশনিক’ হাইপারসনিক মিসাইলের হামলায় ধূলিসাৎ ইউক্রেনের রাজধানী

রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। রাতভর আকাশপথ থেকে একের পর এক মারণাস্ত্রের আঘাতে কেঁপে উঠল গোটা শহর। ইউক্রেনীয় প্রশাসনের দাবি, এই হামলায় রাশিয়া তাদের অত্যাধুনিক ‘ওরেশনিক’ (Oreshnik) হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধের ময়দানে এটি রাশিয়ার অন্যতম বড় এবং বিধ্বংসী আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে স্টারোবেলস্কের একটি কলেজ হস্টেলে ইউক্রেনের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, ইউক্রেনীয় বাহিনী যখন হস্টেলে ছাত্ররা ঘুমিয়ে ছিল, তখনই সেখানে আঘাত হানে। সেই ঘটনার পরই পুতিন প্রশাসন কড়া বদলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। সেই প্রতিজ্ঞার অংশ হিসেবেই কিয়েভকে লক্ষ্য করে এই ব্যাপক আক্রমণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

‘ওরেশনিক’ বা মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (IRBM) হলো রাশিয়ার এক বিশেষ মারণাস্ত্র। এটি একাধিক পৃথক ওয়ারহেড বা মারণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম এবং শব্দের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। পুতিন আগেই জানিয়েছিলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতি এতটাই যে একে মাঝপথে প্রতিহত করা প্রায় অসম্ভব। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে এই মিসাইলের ব্যবহার ইউক্রেনের আকাশসীমা সুরক্ষা ব্যবস্থাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

হামলার ঠিক আগের মুহূর্তে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশবাসীকে সতর্ক করেছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানিয়েছিলেন যে, রাশিয়া কিয়েভসহ একাধিক এলাকায় বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সেখানে ‘ওরেশনিক’ ব্যবহৃত হতে পারে। সেই আশঙ্কা সত্যি করে রাতভর বিস্ফোরণ, বিধ্বংসী আগুন এবং পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। কিয়েভের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, গুদাম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। সরকারি সূত্রে হতাহতের প্রাথমিক খবর পাওয়া গেলেও, সঠিক পরিসংখ্যান এখনও অস্পষ্ট।

এই হামলার কূটনৈতিক তাৎপর্যও এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। ইউক্রেন সাধারণ নাগরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করলেও, রাশিয়ার এই আক্রমণ মূলত পুতিনের সামরিক শক্তি প্রদর্শন এবং কৌশলগত আধিপত্য বিস্তারের ইঙ্গিত। এশিয়ানেট নিউজ বাংলার প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। একদিকে মস্কোর অদূরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, অন্যদিকে কিয়েভে রাশিয়ার হাইপারসনিক ঝাপটা—দুই দেশের এই দ্বৈরথ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক মহল কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy