“কিছু না খেলে তো মরেই যেতাম!” অনুযোগ উড়িয়ে হাসপাতাল থেকে সোজা বাড়ি ফিরলেন মীরা ভট্টাচার্য

সমস্ত উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য। গত কয়েকদিন ধরে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় মঙ্গলবার বিকেলেই তাঁকে ছাড়পত্র দেন চিকিৎসকেরা।

পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত শুক্রবার হঠাৎ করেই পেটে তীব্র ব্যথা এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে কলকাতার উডল্যান্ডস হাসপাতালে ভর্তি হন মীরা দেবী। বয়সজনিত বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণও ধরা পড়েছিল। হাসপাতালে ভর্তির পর তাঁর চিকিৎসায় একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট এবং এন্ডোক্রিনোলজিস্টদের তত্ত্বাবধানে তাঁর পুঙ্খানুপুঙ্খ চিকিৎসা চলে।

প্রাথমিকভাবে পেটের ডান দিকে ব্যথা অনুভূত হলেও, সিটি স্ক্যান করার পর চিকিৎসকেরা জানান যে ডান দিকে বড় কোনো সমস্যা নেই। তবে পেটের বাম দিকে একটি পুরু আস্তরণ ধরা পড়েছিল, যা নিয়ে কিছুটা হলেও উদ্বিগ্ন ছিলেন চিকিৎসকরা। তাঁর হার্টে সমস্যা রয়েছে এবং আগে থেকেই পেসমেকার বসানো থাকায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়। তবে সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ায় আর হাসপাতালে রাখার প্রয়োজন মনে করেননি চিকিৎসকেরা।

এদিন হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা কথা ওঠে। কম খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে চিকিৎসকদের মৃদু অনুযোগের মুখে পড়ে রসিকতা করেই মীরা দেবী বলে ওঠেন, “কিছু না খেলে তো মরেই যেতাম!” তাঁর এই সাবলীল মন্তব্য উপস্থিত চিকিৎসকদের মুখেও হাসি ফোড়ায়। পুত্র সুচেতনের সঙ্গে তিনি হাসপাতাল ছাড়েন। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে তিনি এখন পুরোপুরি বিশ্রামে থাকবেন এবং বাড়িতেই তাঁর পরবর্তী নজরদারি চলবে। প্রবীণা এই ব্যক্তিত্বের সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার খবরে স্বস্তি মিলেছে রাজনৈতিক মহলে ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে।