‘কিউআর কোড স্ক্যান করলেই নিমেষে সাফ অ্যাকাউন্ট!’ পেমেন্ট করার আগে এই ৫ সেকেন্ডের মারাত্মক ভুলটি করছেন না তো?

আজকাল চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বড় শপিং মল—সব জায়গাতেই নগদ লেনদেনের দিন শেষ। কিউআর কোড (QR Code) স্ক্যান করে পেমেন্ট করাটা এখন আমাদের প্রাত্যহিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তবে এই ডিজিটাল সুবিধার সুযোগটাই নিচ্ছে একশ্রেণির সাইবার প্রতারকরা। একটু অসচেতন হলেই আপনার অজান্তে জীবনভর জমানো কষ্টের টাকা নিমেষে সাফ হয়ে যেতে পারে।

বর্তমানে জালিয়াতির নতুন ফাঁদ পেতেছে স্ক্যামাররা। আসল দোকানের কিউআর কোডের ওপর নিজেদের নকল কোড সাঁটিয়ে দিচ্ছে তারা। ফলে আপনি স্ক্যান করে টাকা পাঠালেও তা সোজা চলে যাচ্ছে প্রতারকের অ্যাকাউন্টে। অনেক সময় রাস্তায় পার্কিং, বিদ্যুতের বিল বা সস্তায় জিনিস বিক্রির লোভ দেখিয়েও ভুয়া কিউআর কোড পাঠানো হয়, যা স্ক্যান করলেই ফোনে ম্যালওয়্যার ঢুকে অ্যাকাউন্ট খালি করে দেয়।

সাইবার জালিয়াতি থেকে বাঁচার ৭টি মোক্ষম উপায়:

  • টাকা পেতে কিউআর স্ক্যান নয়: কেউ যদি বলে “আপনাকে টাকা পাঠাচ্ছি, কিউআর কোড স্ক্যান করুন”—তবে সাবধান, এটি ১০০ শতাংশ জালিয়াতি। মনে রাখবেন, ইউপিআই-তে টাকা রিসিভ করার জন্য কখনও পিন দিতে বা কিউআর কোড স্ক্যান করতে হয় না।

  • নাম যাচাই করুন: কিউআর স্ক্যান করার পর পেমেন্ট করার ঠিক আগে প্রাপকের নামটি ভালো করে দেখে নিন। দোকানের নামের বদলে যদি কোনো অচেনা বা ব্যক্তিগত নাম দেখায়, তবে ভুলেও পেমেন্ট করবেন না।

  • রাস্তার কোড থেকে সাবধান: পার্কিং লট বা ল্যাম্পপোস্টে সাঁটানো “স্ক্যান করে বিল মেটান” লেখা স্টিকার এড়িয়ে চলুন। সবসময় বিশ্বস্ত অ্যাপ বা অফিশিয়াল মাধ্যম ব্যবহার করুন।

  • কোডের ছবি শেয়ার করবেন না: নিজের ইউপিআই কিউআর কোডের ছবি বা স্ক্রিনশট কখনও অচেনা কাউকে পাঠাবেন না। এতে আপনার গোপন তথ্য ফাঁস হতে পারে।

  • লাইভ কোড বা সাউন্ড বক্স ব্যবহার করুন: প্রিন্ট করা কোড নকল করা সহজ। তাই সম্ভব হলে দোকানদারের ফোনের লাইভ কিউআর কোড স্ক্যান করুন বা সাউন্ড বক্সে পেমেন্ট করুন।

  • ছোট অঙ্কে পরীক্ষা করুন: বড় লেনদেনের আগে ১ টাকা পাঠিয়ে যাচাই করে নিতে পারেন যে টাকা সঠিক জায়গায় পৌঁছাচ্ছে কি না।

  • প্রতারিত হলে কী করবেন? যদি দুর্ভাগ্যবশত ভুল করে ফেলেন, তবে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে ১৯৩০ (ন্যাশনাল সাইবার ক্রেম হেল্পলাইন) নম্বরে ফোন করুন অথবা అధికారিক পোর্টাল (cybercrime.gov.in)-এ অভিযোগ জানান। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যোগাযোগ করতে পারলে টাকা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। একটু সতর্কতা এবং সচেতনতাই পারে আপনার কষ্টার্জিত অর্থ সুরক্ষিত রাখতে।