‘চেয়ারের লোভে জলাঞ্জলি কেরিয়ারের!’ রাজ্য সাঁতার সংস্থার কোন্দলে নষ্ট হয়ে গেল পুরো একটা মরশুম

সংস্থার অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং চেয়ারের লোভে চরম বিশৃঙ্খলার জেরে বাংলার সাঁতার জগতের কেরিয়ার নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো। রাজ্য সাঁতার সংস্থায় নির্বাচন না হওয়ার কারণে গোটা একটা মরশুম ক্যালেন্ডার থেকেই মুছে গেছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে উদীয়মান সাঁতারুদের ভবিষ্যতের ওপর। কারণ রাজ্য বা জাতীয় স্তরের সাঁতার প্রতিযোগিতার শংসাপত্র স্কুল-কলেজে ভর্তি কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এই অচলাবস্থার জেরে তা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে প্রতিযোগীদের।

সংস্থায় ডামাডোল ও অ্যাড-হক কমিটির বিতর্ক: চলতি বছরের ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন এবং স্থায়ী কমিটি গঠনের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল জাতীয় সাঁতার সংস্থা (SFI)। কিন্তু শৈবাল শাউ’র নেতৃত্বাধীন বর্তমান অ্যাড-হক কমিটি সেই নির্বাচন করাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি নিয়মবহির্ভূতভাবে সকলের অজ্ঞাতসারে তাদের মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসএফআই-এর সংবিধানের ২২ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় ক্রীড়া উন্নয়ন কোড লঙ্ঘন করার অভিযোগে এর আগেই রাজ্য সাঁতার সংস্থা ‘বাসা’ (BASA)-কে শো-কজ নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি তারা।

টাইম-ট্রায়াল ও স্বজনপোষণের অভিযোগ: নির্বাচনী বিধি মেনে বৈধ কমিটি গঠিত না হওয়ায় সাঁতারুদের স্বার্থরক্ষার খাতিরে কোনো প্রতিযোগিতাও আয়োজন করতে পারছে না অ্যাড-হক কমিটি। পরিবর্তে শুধুমাত্র টাইম-ট্রায়াল (Time-Trial) করিয়ে জাতীয় শর্ট ডিসট্যান্স সাঁতার প্রতিযোগিতার জন্য দল বাছাই করা হচ্ছে। আর এই নির্বাচন ও দল বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও স্বজনপোষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কর্তাদের বিরুদ্ধে। সাঁতারুদের একটি মূল্যবান বছর ‘কালো বছর’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় বিভিন্ন জেলা সংস্থা এবং ক্ষুব্ধ ক্রীড়ামহল এখন রাজ্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছে। দ্রুত স্বচ্ছ নির্বাচন সম্পন্ন না হলে বাংলার সাঁতার আরও বড় সংকটের মুখে পড়বে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।