কালীপুজোর রাতে নিষিদ্ধ শব্দবাজি ফাটানো এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করার ঘটনা ঘটলেও, কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পরিসংখ্যানে এখনও কলকাতা অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় অপেক্ষাকৃত নিরাপদ তালিকায় রয়েছে। যদিও, এই রাতে শব্দবাজির তাণ্ডবের জেরে দূষণের মাত্রা সাময়িকভাবে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
গ্রেফতার ১৮৩, বাজেয়াপ্ত ৮৫২ কেজি বাজি
পুলিশ সূত্রে খবর, কড়া পদক্ষেপ নিয়ে কলকাতা পুলিশ কালীপুজোর রাতে নিষিদ্ধ বাজি ফাটানোর অভিযোগে ১৮৩ জনকে গ্রেফতার করেছে এবং ৮৫২ কিলো নিষিদ্ধ শব্দবাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ ভার্মা দাবি করেছেন, “অন্যান্য বছর কিংবা অন্যান্য মেট্রো শহরের তুলনায় এবছর কলকাতাতে অনেকটাই কম দূষণ। কালকে রাতে কলকাতা শহরে অনেকেই অভিযোগ করেছেন, অ্যাডেড এরিয়া থেকে অনেক অভিযোগ এসেছে। একশো জনের বেশি গ্রেফতার হয়েছে গতকাল, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে, পুলিশের তৎপরতা সত্ত্বেও দূষণের মাত্রা সাময়িকভাবে লাগামছাড়া ছিল। মঙ্গলবার সকালে কলকাতায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) গড়ে ১৬৬ থাকলেও, গতকাল রাত এগারোটা থেকে বারোটার মধ্যে দূষণের মাত্রা ৩৭৩ ছুঁয়েছিল, যা ‘খুব খারাপ’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত।
দূষণ বাড়ার নেপথ্যে কি ‘উত্তরের হাওয়া’?
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দিল্লি বা মুম্বইয়ের তুলনায় কলকাতার দূষণের মাত্রা এখনও নিয়ন্ত্রণে। এই প্রসঙ্গে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, “উত্তরের হাওয়ার জন্য অন্যান্য রাজ্যের দূষণ পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। এটাও একটা কারণ রাজ্যের দূষণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার নেপথ্যে। আমরা এর জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করছি।” তিনি যোগ করেন, দিল্লিতে দূষণের মাত্রা অনেকটাই বেশি হয়ে গিয়েছে, এমনকি সমুদ্রের পাড়ে অবস্থিত হয়েও মুম্বইয়ের দূষণের মাত্রাও বেশি। সহ-নাগরিকরা তাঁদের আবেদনে সাড়া দিচ্ছেন বলেই পরিস্থিতি ভালো রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তবে পরিবেশবিদদের মতে, পুলিশের কড়া পদক্ষেপ সত্ত্বেও যে রাতে দূষণ ৩৭৩-এ পৌঁছেছিল, তা রাজ্যের পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক।