বাংলার রাজনীতির ‘এপিসেন্টার’ সিঙ্গুর থেকেই ২০২৬-এর লড়াইয়ের সুর বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে টাটাদের বিদায় এবং ‘জঙ্গলরাজ’ নিয়ে যে আক্রমণ শানিয়েছিলেন, বুধবার ঠিক সেই মাটি থেকেই তার পালটা জবাব দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মমতার সাফ কথা— “জোর করে জমি কেড়ে নয়, কৃষির সঙ্গেই শিল্প হবে।” সিঙ্গুর আন্দোলনে নিজের ২৬ দিনের অনশন ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন, বাংলার উন্নয়ন হবে মানুষের জমি বাঁচিয়েই।
সিঙ্গুর মডেল: কৃষি ও শিল্পের সহাবস্থান প্রধানমন্ত্রী যখন শিল্পের অভাব নিয়ে সরব হয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী তখন পরিসংখ্যান দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন সিঙ্গুর এখন বদলে গেছে। তিনি জানান, রতনপুরের ইন্দ্রখালির মাঠে ৮ একর জমিতে তৈরি হয়েছে ‘সিঙ্গুর অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’। যেখানে ২৮টি প্লটের মধ্যে ২৫টিই বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, ৭৭ একর জমিতে গড়ে উঠছে বিশাল প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, যেখানে আমাজন ও ফ্লিপকার্টের মতো বিশ্বখ্যাত সংস্থা তাদের ওয়্যারহাউস বা পণ্যগুদাম তৈরি করছে। মমতার দাবি, এই মডেলে কৃষকের জমি যেমন সুরক্ষিত থাকবে, তেমনই হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থান হবে।
মোদীকে পালটা তোপ ও রেল বিতর্ক সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে মোদীর রেল প্রকল্পের উদ্বোধনের কৃতিত্বকেও তুড়িতে উড়িয়ে দিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, “তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেললাইন আমার মস্তিষ্কপ্রসূত। আমি রেলমন্ত্রী থাকাকালীন কাজ শুরু করেছিলাম, আর ওরা এখন ফিতে কাটছে।” কেন্দ্রের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “১০০ দিনের টাকা বন্ধ, আবাসনের টাকা বন্ধ, আর এখানে এসে বলছেন বাংলার জন্য সব করবেন? এটা ডবল ইঞ্জিন নয়, জুমলা সরকার।”
উন্নয়নের মেগা প্যাকেজ এদিন সিঙ্গুর থেকেই ১৫০০ কোটির ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান, ২০ লক্ষ মানুষের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের টাকা পাঠানো এবং মোট ১০৭৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বুঝিয়ে দেন, কেন্দ্রের ‘অর্থনৈতিক অবরোধ’ সত্ত্বেও রাজ্য নিজের উন্নয়নের চাকা সচল রেখেছে। সিঙ্গুরের লড়াই যে এখন আর কেবল জমি রক্ষার নয়, বরং ‘মোদীর অভিযোগ’ বনাম ‘মমতার বিকল্প মডেল’-এর, আজকের প্রশাসনিক সভা তা প্রমাণ করে দিল।