মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা থেকে দিল্লি—সাম্প্রতিক বিধানসভা ভোটে একের পর এক বিপর্যয়ের পর দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে কংগ্রেসের। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের সাফল্য বজায় রাখা তো দূরস্ত, উল্টে শক্তি হারিয়েছে দল। এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ুসহ পাঁচ রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজেদের পায়ের তলার মাটি ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে ঝাঁপাতে চাইছে এআইসিসি (AICC)। হাতিয়ার করা হচ্ছে গ্রামীণ ভারতের লাইফলাইন—’মনরেগা’ (MGNREGA)।
আগামীকাল শনিবার থেকেই দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ‘মনরেগা বাঁচাও সংগ্রাম’। কংগ্রেসের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় মোদী সরকার জবরদস্তি মহাত্মা গান্ধীর নাম মুছে ফেলে ‘ভি বি জি রাম জি’ নামে নতুন গ্রামীণ রোজগার প্রকল্প চালু করছে। এর প্রতিবাদে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির সচিবালয়ের সামনে ‘কাম মাঙ্গো অভিযান’ বা কাজ চাওয়ার দাবিতে ধরনায় বসবে কংগ্রেস। দাবি একটাই—বছরে কমপক্ষে ১২৫ দিনের কাজ নিশ্চিত করতে হবে।
সোনিয়া-রাহুলের বিশেষ উদ্যোগ: এই আন্দোলনে সরাসরি জড়িয়েছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী দিল্লি থেকে ভিডিও বার্তা দেবেন শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে। এছাড়া কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর লেখা ব্যক্তিগত চিঠি তুলে দেওয়া হবে মনরেগা শ্রমিকদের হাতে। প্রচারের জন্য বিভিন্ন ভাষায় লিফলেট এবং অডিও-ভিডিও ক্লিপ তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে মোদী সরকারের নতুন প্রকল্পের সীমাবদ্ধতাগুলি সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে।
কংগ্রেসের মূল অভিযোগ: কংগ্রেস বোঝানোর চেষ্টা করবে যে, পুরোনো প্রকল্পে শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষিত থাকলেও নতুন প্রকল্পে ৬০:৪০ খরচের ফর্মুলায় রাজ্যগুলি আর্থিক সংকটে পড়লে কাজের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এছাড়া চাষের মরশুমে দু’মাস কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও সরব হবে দল। আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে দেড় মাস এই অভিযান চলবে, যার মধ্যে ১২ থেকে ২৯ জানুয়ারি আন্দোলনের গতি সবথেকে বেশি রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকম্যান্ড। আসন্ন পাঁচ রাজ্যের ভোটে গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের ভোটব্যাঙ্ক ফিরে পাওয়াই এখন খাড়গে-রাহুলদের মূল লক্ষ্য।