কামদুনির ফাইল কি ফের খুলবে? বিচারের আশায় নতুন মোড়, বড় প্রতিশ্রুতি শমীকের

কামদুনি গণধর্ষণ ও খুনকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পার হওয়ার পরেও কাটছে না ধোঁয়াশা। তবে এবার এই অতি সংবেদনশীল ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে ফের সরব হলো বঙ্গ বিজেপি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সাম্প্রতিক আশ্বাস, কামদুনির ফাইল ফের খোলা হবে এবং প্রকৃত দোষীরা কোনোভাবেই রেহাই পাবে না।

দীর্ঘদিন ধরে সুবিচারের অপেক্ষায় থাকা নির্যাতিতার পরিবার সম্প্রতি বিজেপির দ্বারে পৌঁছালে ফের নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এই ঘটনা। সোমবার শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, ২০১৩ সালের এই নারকীয় ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক স্বার্থে প্রভাবিত করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, “ব্লক ভোটের কথা মাথায় রেখে তদন্তের রিপোর্ট এমনভাবে সাজানো হয়েছিল, যাতে আদালত প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্ত কোনো প্রমাণ না পায়।”

শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যের মূল দিকগুলি:

  • প্রমাণের অভাব: বিজেপির রাজ্য সভাপতির দাবি, তদন্তে এমন ত্রুটি রাখা হয়েছিল যাতে বিচারপতির সামনে অভিযুক্তদের বেকসুর খালাস করা ছাড়া আর কোনো উপায় না থাকে।

  • সুবিন্যস্ত বিচার: তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অপরাধীর কোনো ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয় থাকা উচিত নয়। কামদুনির অপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অপরাধের তীব্রতাকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

  • পরিবারের লড়াই: নির্যাতিতার পরিবারের দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শমীক জানান, দল এবার এই বিষয়টি নিয়ে জোরালো ভূমিকা নেবে যাতে দোষীরা কঠোর শাস্তি পায়।

এক নজরে কামদুনি কাণ্ড: ২০১৩ সালের ৭ জুন কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল গোটা বাংলা। নিম্ন আদালতে তিনজনের ফাঁসির আদেশ হলেও, ২০১৬ সালের পরবর্তী হাই কোর্টের রায়ে সেই সাজা মকুব বা পরিবর্তন করা হয়। বর্তমানে সেই মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।

দীর্ঘ আন্দোলনের পর আজও কামদুনিবাসীর মনে জ্বলছে সেই একই ক্ষোভ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর এই মামলা আবারও সামনে আসায় তা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতির আঙিনায় বড়সড় ঢেউ তুলতে চলেছে। এখন আদালতের আঙিনায় এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy