পাঞ্জাবের এক ছোট গ্রাম থেকে শুরু হওয়া জীবন শেষ হলো কানাডার উপশহরে, এক মর্মান্তিক ‘টার্গেটেড কিলিং’-এ। অ্যাবটসফোর্ডে নিজের বাড়ির বাইরে গুলি করে খুন করা হলো ৬৮ বছর বয়সী সফল উদ্যোগপতি দর্শন সিং সাহসিকে। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডকে ‘লক্ষ্য করে খুন’ বা ‘টার্গেটেড কিলিং’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এই চাঞ্চল্যকর হত্যার দায় স্বীকার করেছে কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। গ্যাং সদস্য গোল্ডি ধিলোন একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করে, এই ব্যবসায়ী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তাদের টাকা দিতে অস্বীকার করায় সাহসিকে খুন করা হয়েছে।
জানা গেছে, কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া সাহসি নতুন দিগন্তের সন্ধানে ১৯৯১ সালে কানাডায় পাড়ি দেন। প্রাথমিক জীবনে ছোটখাটো কাজ করার পর তিনি একটি রুগ্ন বস্ত্র ইউনিট কিনে নেন এবং তাকে বিশ্বব্যাপী সংস্থায় পরিণত করেন। সাহসির নেতৃত্বে তাঁর সংস্থা—ক্যানাম ইন্টারন্যাশনাল—পোশাক পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সংস্থায় পরিণত হয়, যার উপস্থিতি ৪০টিরও বেশি দেশে এবং টেকসই সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য যার সুনাম ছিল। তিনি তাঁর পাঞ্জাব ও গুজরাটের শিকড়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতেন এবং তাঁর জনহিতকর ও সাংস্কৃতিক অবদানের জন্য প্রবাসীদের মধ্যে অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন।
নর্থ আমেরিকান পাঞ্জাবি অ্যাসোসিয়েশনের (NAPA) কার্যনির্বাহী পরিচালক সত্নাম সিং চাহাল জানান, সাহসি ইন্দো-কানাডিয়ান সম্প্রদায়ের মধ্যে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর উদ্যোগ স্থানীয় পাঞ্জাবি সম্প্রদায়ের বহু সদস্যকে কর্মসংস্থান দিয়েছে এবং এই অঞ্চলের পুনর্ব্যবহার ও স্থিতিশীলতা প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।
সোমবার সকাল ৯.২২ মিনিট নাগাদ অ্যাবটসফোর্ড পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (APD) রিজভিউ ড্রাইভের ৩১৩০০-ব্লকে গুলির খবর পেয়ে সাড়া দেয়। তদন্তে জানা যায়, আততায়ী একটি পার্ক করা গাড়িতে অপেক্ষা করছিল। সাহসি তাঁর গাড়িতে ওঠার সময় বন্দুকধারী গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। দ্রুত চিকিৎসা কর্মীরা পৌঁছালেও আঘাতের জেরে সাহসি মারা যান।
সাহসির ছেলে আর্পন সিবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, হামলার আগে পরিবার কোনো হুমকি পায়নি। তিনি বলেন, “আমরা বিধ্বস্ত, কারণ এটা আমাদের কাছে অর্থহীন। কোনো হুমকি ছিল না, কোনো ব্ল্যাকমেল বা চাঁদাবাজি ছিল না।” প্রবাসীদের মধ্যে সাহসি শুধু একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবেই নয়, পাঞ্জাব এবং বিদেশে বসবাসকারী পাঞ্জাবিদের মধ্যে সেতুবন্ধনকারী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তিনি একাধিক কমিউনিটি উদ্যোগে অর্থায়ন করতেন, পাঞ্জাবি সাহিত্য ও ঐতিহ্যকে সমর্থন করতেন এবং বহু অভিবাসীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছিলেন।





