বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার ঠিক আগেই বড়সড় ঘোষণা করল নবান্ন। রাজ্যের প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোকে উন্নয়নের মূল স্রোতে সামিল করতে ৫টি নতুন ‘উন্নয়ন পর্ষদ’ (Development Board) গঠনের সিদ্ধান্ত নিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। শুক্রবার বিকেলে নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপকে ভোটের আগে শাসকদলের বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।
কাদের জন্য এই পর্ষদ? রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, এই পাঁচটি উন্নয়ন পর্ষদ মূলত নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক উন্নতির কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। যে সম্প্রদায়গুলির জন্য পর্ষদ গঠন করা হয়েছে সেগুলি হলো— বউরি, বাগদি, মালে-কুর্মি, মোদক এবং সাহা সম্প্রদায়। এর আগে রাজ্যের উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলের বিভিন্ন জনজাতির জন্য পৃথক পর্ষদ গঠন করে সাফল্য পেয়েছে সরকার। এবার সেই একই মডেলে পিছিয়ে পড়া অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীগুলোর কাছে সরাসরি সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য নবান্নের।
উন্নয়নের নীল নকশা: এই পর্ষদগুলো মূলত ওই সম্প্রদায়ের জন্য আবাসন প্রকল্প, শিক্ষা বিস্তার, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করবে। প্রতিটি পর্ষদের জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দও ঘোষণা করেছে অর্থ দপ্তর। প্রশাসনিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে এই ঘোষণা সংশ্লিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে সংহত করতে বড় ভূমিকা নেবে। বিরোধীরা অবশ্য একে ‘ভোটের রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করলেও, নবান্নের দাবি— প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতেই এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।