রবিবার ভোরে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনের কামরায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা কাটোয়া-আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার ট্রেনের একটি বগি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেলের যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রের মোদী সরকারকে লক্ষ্য করে শাসক দলের কটাক্ষ, “রেলের আধুনিকীকরণের বদলে কেবল প্রচার হচ্ছে, আদতে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা তলানিতে।”
কী ঘটেছিল? রেল সূত্রে খবর, রবিবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটির একটি কামরা থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন স্টেশনে থাকা যাত্রীরা। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো কামরাটি দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে। ভোর ৬টা ৫ মিনিটে ট্রেনটি ছাড়ার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই এই বিপত্তি ঘটে। দমকলের দুটি ইঞ্জিন প্রায় আধঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কোনো যাত্রী ভেতরে না থাকায় বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো গিয়েছে।
তৃণমূলের আক্রমণ: এই ঘটনার পরই সরব হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, “বারবার রেল দুর্ঘটনা ঘটছে, কখনও লাইনচ্যুতি তো কখনও অগ্নিকাণ্ড। যাত্রী সুরক্ষার চেয়ে কেন্দ্রের নজর কেবল বন্দে ভারতের প্রচারে।” তৃণমূলের দাবি, রেলের গাফিলতির কারণেই সাধারণ মানুষ আজ বিপন্ন।
রেলের সাফাই: পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুন লাগতে পারে। রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগুনের উৎস চিহ্নিত করতে ফরেনসিক পরীক্ষার সাহায্য নেওয়া হতে পারে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো নাশকতার ছক ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।