‘কাটমানির জেরেই কি এই পরিণতি?’ তারাতলা বিপর্যয়ে বিঁধলেন শুভেন্দু, সাফাই ফিরহাদ হাকিমের

গত ২৪ জুন কলকাতার তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় শহরজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই বিপর্যয় কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং এখন তা পরিণত হয়েছে বড় মাপের রাজনৈতিক বিতর্কে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো চলছে উদ্ধারকার্য, আর এরই মধ্যে সামনে এসেছে এমন এক নথি যা নিয়ে সরগরম রাজ্য-রাজনীতি।

সম্প্রতি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে একটি নথিপত্র প্রদর্শন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই ভেঙে পড়া ভবনের প্ল্যান অনুমোদনের চিঠিতে খোদ তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। শুভেন্দুর সরাসরি দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের ‘কাটমানি’ সংস্কৃতির কারণেই তিলোত্তমা শহর আজ ‘মৃত্যুপুরী’তে পরিণত হয়েছে। তাঁর মতে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এবং নজরদারির অভাব থাকার কারণেই এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়েছে কলকাতাকে।

এদিকে, শুভেন্দুর এই তোপ দাগার পরেই পাল্টা সুর চড়িয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম। সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমি যতদূর জেনেছি, ওই গোডাউনটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বেআইনি ছিল না। নকশা বা প্ল্যান অনুমোদন হয়েছিল।” তবে তিনি দায় অস্বীকার করে বলেন, “মেয়র বা কমিশনারের পক্ষে তো আর প্রতিদিন গিয়ে নজরদারি চালানো সম্ভব নয়। নির্মাণকাজে কী ধরনের সামগ্রী বা মেটেরিয়াল ব্যবহার করা হয়েছে, তা আমার জানার কথা নয়। তাছাড়া কোথায় ঠিক কী ধরনের কাজ হচ্ছে, তার খুঁটিনাটি সব সময় আমাদের কাছে থাকে না।”

উল্লেখ্য, এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরও একটি অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। আলিপুর থানায় প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের হয়েছে, যা বর্তমান শাসকদলের অস্বস্তি আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তারাতলার বিপর্যয়ে নিহত ও আহতদের নিয়ে শোকের ছায়া কাটতে না কাটতেই, এখন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। প্রশাসনিক গাফিলতি নাকি নির্মাণকারীদের কারচুপি—কোনটি এই ভয়াবহ পরিণতির মূল কারণ, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বিরোধীদের দাবি, তদন্তের দায় এড়িয়ে পালানোর সুযোগ নেই। তবে কলকাতা পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসন এই দায়ভার কার ওপর চাপাবে, তা এখন দেখার বিষয়। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর ফরেনসিক তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে, এই নথিপত্রের আড়ালে লুকিয়ে আছে কি কোনো বড় অপরাধের ইতিহাস। আপাতত উদ্ধারকর্মীদের নিরন্তর প্রচেষ্টা চলছে, যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচে কোনো মানুষ আটকে না থাকে। তবে এই দুর্ঘটনার প্রভাব কলকাতার আবাসন ও নির্মাণ শিল্পে বড় ধরনের আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।