নন্দীগ্রামের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে এবার নতুন মাত্রা যোগ করল বিজেপি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিনেই বড়সড় চমক দিল গেরুয়া শিবির। দলের দুই হেভিওয়েট নেতা—শুভেন্দু অধিকারী এবং দিলীপ ঘোষকে একসঙ্গে একই মঞ্চে এবং একই মিছিলে দেখা যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। হলদিয়ায় মহকুমা শাসকের দফতরে শুভেন্দু যখন মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছেন, তখন তাঁর পাশে ছায়াসঙ্গীর মতো দেখা গেল রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা বর্তমান সাংসদ দিলীপ ঘোষকে।
বিজেপির এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। দলের অন্দরে অনেক সময়ই শুভেন্দু ও দিলীপের সমীকরণ নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যায়। কিন্তু আজ নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের লড়াইয়ে দু’জনকে একসঙ্গে দেখে কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। হলদিয়ার রাস্তায় তখন জনসমুদ্র। জয় শ্রী রাম ধ্বনি আর শঙ্খধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত। শুভেন্দু এবং দিলীপ দু’জনেই হাসিমুখে কর্মীদের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং একযোগে তৃণমূলকে উৎখাত করার ডাক দেন।
মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার আগে এক জনসভায় দিলীপ ঘোষ বলেন, “নন্দীগ্রাম এবার ইতিহাস গড়বে। শুভেন্দু এই মাটির ছেলে, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে বহিরাগত। মানুষ এবার যোগ্য জবাব দেবেন।” অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর গলায় শোনা গিয়েছে চরম আত্মবিশ্বাসের সুর। তিনি বলেন, “দিলীপ দা পাশে থাকা মানেই বাড়তি অক্সিজেন। আমরা সবাই মিলে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে লড়ছি। নন্দীগ্রামে পদ্ম ফুটবেই।”
এই মেগা ইভেন্টে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন শুভেন্দু-দিলীপ জুটি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঐক্যের ছবি দিয়ে বিজেপি বার্তা দিতে চাইল যে, দলের অন্দরে কোনো ফাটল নেই এবং নন্দীগ্রামের লড়াইয়ে তারা সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে প্রস্তুত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই ‘যুগলবন্দী’ লড়াই শাসক শিবিরের ওপর বড়সড় মানসিক চাপ তৈরি করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।