“কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা নেবেন, আর কাজ করবেন না?” রক্ষণাবেক্ষণ এজেন্সিগুলোকে চরম হুঁশিয়ারি মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের

শহরের অন্যতম প্রধান দুই ফুসফুস—রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মঙ্গলবার সরোবর চত্বর পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, সরকারি টাকায় গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে টেন্ডার বাতিল করে নতুন সংস্থা নিয়োগ করা হবে।

মন্ত্রীর নিশানায় এজেন্সি: পরিদর্শনের পর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “সরোবরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যে এজেন্সিকে দেওয়া হয়েছে, তারা বিনিময়ে লক্ষ লক্ষ টাকা নিচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। আগের সরকারের সঙ্গে ‘সেটিং’ করে যারা এতদিন এই কাজ চালিয়েছে, তাদের কড়ায় গণ্ডায় হিসেব বুঝে নেওয়া হবে।”

কী কী অব্যবস্থা চোখে পড়ল? মন্ত্রী একাধিক অভিযোগের কথা তুলে ধরেন:

  • অসামাজিক কার্যকলাপ: লেক চত্বরের ভেতরে জুয়া ও গাঁজার আসর বসছে বলে অভিযোগ।

  • সুইমিং পুলের বেহাল দশা: শহরের ভালো মানের সুইমিং পুলগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পড়ে রয়েছে।

  • ভুয়া ওপিডি ও ক্লাব: এলাকায় কোনো ওপিডি বা ক্লাব কীভাবে চলছে, তার কোনো নথি নেই। এমনকি ডাক্তাররা কী ধরনের চিকিৎসা করছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

  • রাজস্ব ক্ষতি: লেক চত্বরে অবস্থিত ফিশিং ক্লাব থেকে সরকার আদৌ কোনো রাজস্ব পাচ্ছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। ১৫ বছর ধরে চলা এই অব্যবস্থা আর চলবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

কড়া বার্তা: মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, যারা রক্ষণাবেক্ষণের বরাত পেয়েছেন, তারা যদি অবিলম্বে পরিষেবা উন্নত না করেন, তবে তাদের বিল থেকে টাকা কাটা হবে। পরিস্থিতি না বদলালে টেন্ডার বাতিল করে নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তাঁর এই সরাসরি চ্যালেঞ্জের পর এখন রক্ষণাবেক্ষণ এজেন্সিগুলোর মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।