কাঁটাতার পেরিয়ে ভারতে এসে শুরু মুদির দোকান, আজ ২৫০ কোটির কোম্পানির মালিক, অনুপ্রেরণার নাম শ্রবণ কুমার

নয়াদিল্লি: রাজস্থানের বারমেরের শ্রবণ কুমার মাহেশ্বরী (Shravan Kumar Maheshwari) তাঁর দৃঢ়তার জোরে এক অসাধারণ সাফল্যের গল্প লিখেছেন, যা সীমান্ত পেরিয়ে বহু মানুষের কাছে পৌঁছেছে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর তিনি পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশ থেকে সীমিত সম্পদ এবং কোনো আনুষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়াই ভারতে আসেন। কয়েক দশক পরে, তিনি আজ ২৫০ কোটি টাকার বার্ষিক টার্নওভারের একটি কোম্পানির মালিক, যার পণ্য ৫০টি দেশে রপ্তানি হয়।

সিন্ধু প্রদেশে জন্ম নেওয়া শ্রবণ কুমার, ম্যাট্রিকুলেশন পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর পরিবারের সাথে ভারতে চলে আসেন। বারমেরে বসতি স্থাপন করার পর, তিনি স্টেশন রোডে একটি ছোট মুদি দোকান শুরু করেন এবং পরে একটি তেলের দোকান চালান। কঠোর পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে তিনি দ্রুত গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জন করেন। ২০০১ সালে ‘মহেশ এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রি’ প্রতিষ্ঠা করে তিনি গুজব গাম শিল্পে প্রবেশ করার পরই তাঁর ভাগ্য পরিবর্তিত হয়।

গুজব গামের সাফল্যের গল্প
খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী এবং তেল শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত গুজব গাম (Guar Gum) একটি বড় সুযোগ এনে দেয়। প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, শ্রবণ কুমারের বাজার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা এবং গুণমানের প্রতি অঙ্গীকার তাঁকে সফল করে তোলে। বর্তমানে জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ব্রিটেন এবং জাপান সহ ৫০টি দেশে তাঁর পণ্য রপ্তানি হয়। তাঁর কোম্পানি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে প্রক্রিয়াজাত গুজব গাম পাউডার রপ্তানি করে, যা সময়মতো সরবরাহ এবং উচ্চ গুণমানের জন্য প্রশংসিত।

শুরু থেকে ২৫০ কোটি টাকার সাম্রাজ্য স্থাপন
তাঁর এই যাত্রার দিকে ফিরে তাকিয়ে শ্রবণ কুমার বলেন, “কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসই আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ ছিল।” তিনি জানান, তিনি কখনোই ডিগ্রির অভাবকে বাধা হিসেবে দেখেননি। এর পরিবর্তে তিনি বাজারের চাহিদা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কারখানায় স্বয়ংক্রিয় প্ল্যান্ট স্থাপনের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন।

আজ তাঁর কোম্পানিতে কৃষক, শ্রমিক, প্রকৌশলী এবং বিপণন কর্মী সহ শত শত মানুষ নিযুক্ত। আধুনিকতাকে গ্রহণ করে তাঁর প্ল্যান্টটি ISO এবং FSSAI শংসাপত্র পেয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে গুজব কিনে তিনি আঞ্চলিক অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করছেন। শ্রবণ কুমার জোর দেন যে গ্রাহকের প্রয়োজন বোঝা, গুণমান বজায় রাখা এবং সময়মতো সরবরাহ করাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

শ্রবণ কুমারের অনুপ্রেরণামূলক গল্প তরুণদের সাহস ও কঠোর পরিশ্রমের গুরুত্ব বোঝায়। তাঁর কোম্পানি সীমান্ত এলাকায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy