বাংলার রাজনীতির এক বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান। প্রয়াত রাজনীতিক মুকুল রায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হলো তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মভূমি কাঁচরাপাড়ায়। সোমবার প্রিয় ‘মুকুলদা’কে শেষ বিদায় জানাতে আক্ষরিক অর্থেই কাঁচরাপাড়ার রাস্তায় আছড়ে পড়েছিল জনস্রোত। রাজনীতির ময়দানে তাঁর দীর্ঘ পথচলা নিয়ে হাজারো বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু এদিন কাঁচরাপাড়ার মানুষের চোখে ছিল শুধুই বিয়োগব্যথা।
এদিন মুকুল রায়ের শেষযাত্রায় শামিল হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কেবল উপস্থিত থাকাই নয়, সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে শ্মশান পর্যন্ত যান তিনি। অভিষেকের এই উপস্থিতি এবং পায়ে হেঁটে শেষযাত্রায় অংশ নেওয়া রাজনৈতিক মহলে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। মুকুল রায়ের মরদেহে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন উপস্থিত অনেক হেভিওয়েট নেতাও।
শহর জুড়ে এদিন ছিল অঘোষিত বনধের মেজাজ। দোকানপাট বন্ধ রেখে সাধারণ মানুষ রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁদের ঘরের ছেলেকে শেষবার দেখবেন বলে। দলমতনির্বিশেষে বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ভিড় করেছিলেন কাঁচরাপাড়ায়। কাঁচরাপাড়ার শ্মশানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। রাজনীতির চাণক্য হিসেবে পরিচিত মানুষটি চিরতরে বিদায় নিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতি আজও শহরবাসীর মনে অমলিন।