দক্ষিণ কলকাতার কাঁকুলিয়া ও গোলপার্ক এলাকার শিউরে ওঠা গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনায় মঙ্গলবার চার অভিযুক্তকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে তাঁদের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকা থেকে রাহুল দাস ওরফে বাবু শোনা এবং শুভঙ্কর রায় ওরফে শুভ নামে আরও দুই সক্রিয় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আদালতে সরকারি আইনজীবী এক চাঞ্চল্যকর দাবি পেশ করেন। তিনি জানান, এই পুরো ঘটনার মূল চক্রী বা ‘কিংপিন’ একজন খুনের মামলায় জামিনে মুক্ত আসামী, যে বর্তমানে পলাতক। ঘটনার দিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি বাইকে করে দুষ্কৃতীরা এসেছিল এবং তাদের প্রত্যেকের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। এই বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র কোথা থেকে এল এবং এর পেছনে ‘সোনা পাপ্পু’র মতো কোনো প্রভাবশালী যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে লালবাজার।
মামলাকারীদের আইনজীবীর প্রশ্ন, তিন দিন পার হয়ে গেলেও কেন মূল পান্ডাকে ধরা গেল না? পুলিশি সূত্রে খবর, ধৃত বাবলু সাউ, ইন্দ্রজিৎ মাঝি, জয়ন্ত নস্কর এবং দেবাশিস মণ্ডলকে জেরা করে এই সংগঠিত অপরাধচক্রের শিকড়ে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার রাতে রবীন্দ্র সরোবর থানার কাছে একটি ক্লাবের পিকনিক চলাকালীন দুই গোষ্ঠীর বচসা থেকে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় পঞ্চাননতলা এলাকা। চলে দেদার গুলি ও বোমাবাজি। ঘটনায় দুজন আহত হন এবং এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ইতিমধ্যেই দুই পক্ষ মিলিয়ে মোট ১০ জনকে আটক ও গ্রেফতার করেছে।