কলেজ স্ট্রিটের আদলে সাজবে মায়াপুর! আন্তর্জাতিক তীর্থক্ষেত্র গড়ার মেগা প্ল্যান রাজ্যের

কৃষ্ণনগরের অন্যতম প্রধান তীর্থক্ষেত্র মায়াপুরকে আন্তর্জাতিক মানের তীর্থক্ষেত্র ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। ইসকন মন্দির চত্বর এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলকে আধুনিক পরিকাঠামোয় মুড়ে ফেলার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন। সম্প্রতি মায়াপুরের ইসকন লোটাস ভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের নেতৃত্বে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নবদ্বীপের বিধায়ক শ্রুতি শেখর গোস্বামী, নদিয়ার জেলা শাসক, কেএমডিএ-র সিইও নিতিন সিংহানিয়া, দপ্তরের যুগ্ম সচিব সুপ্রিয় অধিকারী এবং ইসকনের প্রতিনিধিরা।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, ইসকন মন্দির সংলগ্ন প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ একর জমি এবং সংলগ্ন টাউন এলাকাকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কলকাতার বিখ্যাত কলেজ স্ট্রিট এবং ট্যাংরা চিনা টাউনের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের আদলেই এই এলাকার রূপান্তর ঘটানো হবে। দেশ-বিদেশ থেকে প্রতিদিন যে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী ও পর্যটক মায়াপুরে আসেন, তাঁদের সুবিধার্থে রাস্তাঘাট, নিকাশি ব্যবস্থা, গণপরিবহণ এবং অন্যান্য পর্যটন পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ করা হবে। এই উদ্দেশ্যে জাতীয় স্তরের দক্ষ প্ল্যানার ও আর্কিটেক্টদের দিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ব্লু-প্রিন্ট বা মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে।
তবে বর্তমান পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী জানান, মায়াপুর এলাকাটি পঞ্চায়েতের অধীনে থাকায় সেখানে আধুনিক সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট বা ডাম্পিং গ্রাউন্ডের যথাযথ ব্যবস্থা নেই। এর ফলে বিভিন্ন জায়গায় আবর্জনা জমে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি, আধুনিক এসটিপি (Sewage Treatment Plant) না থাকায় নিকাশি ব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই সমস্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানে পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়নের কাজ চালানো হবে।
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের নির্বাচিত পাঁচটি স্মার্ট সিটির মধ্যে নবদ্বীপকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই নবদ্বীপ এবং মায়াপুর—দুটি এলাকাকেই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে নতুন রূপ দেওয়া হবে। পুরসভার সাফাইকর্মী ও প্রশাসনিক টিমকে সঙ্গে নিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই কাজগুলি বাস্তবায়িত করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। এছাড়া বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইসকন মন্দিরে গিয়ে বিশেষ আরতিতেও অংশ নেন তিনি। সবমিলিয়ে, মায়াপুরের আগামী দিনে এক সম্পূর্ণ নতুন ও আধুনিক রূপ দেখতে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন দেশ-বিদেশের পুণ্যার্থীরা।