কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা খেয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে অভিষেক! চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়া নিয়ে বড় মোড়

কলকাতা হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর এবার চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেশের শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছেন তিনি। আগামী সপ্তাহেই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

হাইকোর্টে কী হয়েছিল?

এর আগে চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। বিচারপতির পরামর্শ ছিল, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন অত্যন্ত উন্নত। অভিষেকবাবু চাইলে কলকাতার এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালেই চোখের চিকিৎসা করাতে পারেন এবং প্রয়োজনে তাঁর জন্য বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ডও গঠন করা যেতে পারে। এমনকি দেশের অন্য কোনও স্বনামধন্য হাসপাতালেও তাঁর চিকিৎসা করানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়।

তবে সেই পরামর্শে রাজি হননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। তিনি আদালতে জানান, যেহেতু তাঁর মক্কেলের চোখের আগের অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা বিদেশেই হয়েছিল, তাই তিনি ভারতেই নতুন করে চিকিৎসা শুরু করতে ইচ্ছুক নন।

আদালতের আপত্তি ও সওয়াল-জবাব:

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বর্তমানে প্রায় ১৬টি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি বিদেশ চলে গেলে মামলার তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, মূল বিষয় হল চিকিৎসা হওয়া, সেটি দেশের ভেতরে বা বাইরে হওয়া বড় কথা নয়। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও সওয়াল করা হয় যে, এই মুহূর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ যাওয়ার মতো কোনও আপৎকালীন বা জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সব পক্ষের বক্তব্য শুনেই হাইকোর্ট তাঁর বিদেশযাত্রার আবেদন খারিজ করে দেয়।

সুপ্রিম কোর্টে লড়াই ও রাজনৈতিক চর্চা:

হাইকোর্টের এই রায়ের পরই আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নেড়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের অন্দরেও এই বিদেশযাত্রার জল্পনা নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য শোনা গেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, শীর্ষ আদালত এই মামলায় কী রায় দেয় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পান কি না, এখন সেটাই দেখার।