মার্সিডিজ-বেঞ্জ বাজারে আনল তাদের নতুন ইলেকট্রিক সেডান—CLA। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি এই গাড়ির প্রধান আকর্ষণ এর অবিশ্বাস্য রেঞ্জ। এর ‘২৫০+’ ভ্যারিয়েন্টটি এক চার্জে ৭৯২ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ চলতে সক্ষম। অর্থাৎ, কলকাতা থেকে রওনা দিলে এক চার্জেই পৌঁছে যাওয়া সম্ভব প্রয়াগরাজে। এরোডাইনামিক ডিজাইন এবং ৮৫ কিলোওয়াট আওয়ারের এনএমসি (NMC) ব্যাটারির কারণেই মার্সিডিজ এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পেরেছে, যা এমনকি তাদের প্রিমিয়াম EQS মডেলকেও টেক্কা দেয়।
পারফরম্যান্স ও ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা
সাধারণত ইলেকট্রিক গাড়িতে একটি গিয়ারবক্স থাকে, তবে CLA-তে রয়েছে দুটি গিয়ারবক্স। বাস্তব রাস্তায় এটি ৬২০ কিলোমিটারের বেশি রেঞ্জ প্রদান করে। ২৭২ হর্সপাওয়ারের মোটর গাড়িটিকে দেয় মসৃণ ও লিনিয়ার পারফরম্যান্স। যদিও BYD সিলের মতো এটি অত্যন্ত দ্রুত গতির নয়, তবুও আরামদায়ক অভিজ্ঞতায় এটি অতুলনীয়। গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স বাড়ানোয় সাধারণ রাস্তায় এটি সাবলীল, তবে বড় স্পিড ব্রেকারে কিছুটা ঝাঁকুনি অনুভূত হতে পারে।
ইন্টেরিয়র ও প্রযুক্তি
গাড়ির অন্দরে রয়েছে মার্সিডিজের সিগনেচার লাক্সারি। ১৪ ইঞ্চির বিশাল স্ক্রিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন সিস্টেম, ভয়েস কমান্ড, অগমেন্টেড রিয়েলিটি নেভিগেশন এবং প্রিমিয়াম বারমেস্টার অডিও সিস্টেম গাড়িটিকে একটি স্মার্ট লাউঞ্জে পরিণত করেছে। ৮০০ ভোল্টের আর্কিটেকচার দ্রুত চার্জিং নিশ্চিত করে। সামনের সিট প্রশস্ত হলেও পিছনের সিটে লেগস্পেস কিছুটা কম মনে হতে পারে। রয়েছে ৪০৫ লিটারের বুট স্পেস ও ফ্রাঙ্ক (Frunk)।
পরিশেষে, বিলাসিতা এবং রেঞ্জের সঠিক ভারসাম্য খুঁজলে, মার্সিডিজ CLA তার দামের তুলনায় একটি দুর্দান্ত বিনিয়োগ।