২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভাগ্য নির্ধারিত হতে চলেছে বাংলার। তবে রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে তিলোত্তমার ১১টি আসন। ঐতিহাসিকভাবে কলকাতা ও লাগোয়া এলাকাগুলি তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত হলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেখানে কি পরিবর্তনের কোনও হাওয়া বইছে? শাসকদল ও বিরোধী শিবিরের দ্বৈরথে কলকাতার বুক এখন এক হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্র।
তৃণমূলের দাপট ও ‘ঘরের মেয়ে’ আবেগ: কলকাতা পুরসভার সবকটি ওয়ার্ডে তৃণমূলের একছত্র আধিপত্য এবং সাম্প্রতিক পুরভোটে বিরোধীদের ধুয়ে মুছে যাওয়ার পরিসংখ্যান শাসকশিবিরকে আত্মবিশ্বাসী রাখছে। ফিরহাদ হাকিম, শশী পাঁজা এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো পোড় খাওয়া নেতাদের এবারও কলকাতার আসনগুলিতে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘উন্নয়ন’ এবং ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা কলকাতার ভোটারদের তৃণমূলমুখী রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিজেপির ‘পাল্লাভারী’ করার চেষ্টা: অন্য দিকে, গেরুয়া শিবির এবার কোমর বেঁধে নেমেছে উত্তর ও মধ্য কলকাতার আসনগুলিতে ফাটল ধরাতে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি এবার শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের কাছে আরজি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে নিয়োগ দুর্নীতি— প্রতিটিকে হাতিয়ার করে প্রচার চালাচ্ছে। বিজেপির দাবি, কলকাতার মানুষের মনে এবার পরিবর্তনের সুপ্ত ইচ্ছা রয়েছে, যা ব্যালট বক্সে প্রকাশিত হবে। বিশেষ করে অবাঙালি অধ্যুষিত আসনগুলিতে তৃণমূলের একাধিপত্যে থাবা বসাতে মরিয়া বিজেপি।
পরিসংখ্যান কী বলছে? ২০২১ সালের নির্বাচনে কলকাতার সবকটি আসনেই তৃণমূল জয়লাভ করেছিল। তবে সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে কয়েকটি ওয়ার্ডে বিজেপি লিড পাওয়ায় উৎসাহিত হয়েছে পদ্ম শিবির। অন্যদিকে, বাম-কংগ্রেস জোটও কলকাতার কয়েকটি পকেটে হারানো জমি পুনরুদ্ধারে সক্রিয় হয়েছে, যা ভোট কাটাকাটির সমীকরণে তৃণমূল বা বিজেপি কার সুবিধা করবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ফলাফলের দিনক্ষণ: কলকাতার এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের ফলাফল জানা যাবে আগামী ৪ মে। নীল-সাদা ঝাণ্ডার দাপট বজায় থাকবে নাকি কলকাতার আকাশ গেরুয়া হবে, তা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। তবে এটুকু নিশ্চিত যে, ২০২৬-এর এই লড়াই কলকাতার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বড়সড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে।





