২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগেই বড়সড় সংঘাতের পথে হাঁটলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দুপুর ২টো ১৫ মিনিট নাগাদ ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসলেন তিনি। ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ দেওয়া এবং ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তৃণমূল। ধরনায় বসেই কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে (ECI) একযোগে আক্রমণ শানান মমতা। তাঁর সাফ কথা, “আমরা জানি কোথায় কী হয়, কার নির্দেশে কত নাম কাটা হয়েছে সব খবর আমাদের কাছে আছে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন দাবি করেন, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন মিলে ষড়যন্ত্র করে বাংলার লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম মুছে দিয়েছে। বিশেষ করে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা এবং উত্তরবঙ্গের সীমান্ত জেলাগুলোতে এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া উদ্দেশ্যপ্রণীত বলে অভিযোগ তাঁর। তৃণমূল নেত্রী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “কমিশন যাদের ‘মৃত’ বলে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে, তাদের আমি সশরীরে ধরনা মঞ্চে হাজির করব। যারা বেঁচে আছেন তাদেরও মৃত সাজানো হয়েছে কেবল বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়ার জন্য।” উল্লেখ্য, প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া এবং ৬০ লক্ষেরও বেশি নাম ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বিভাগে থাকা নিয়ে রাজভবন ও নবান্নের সংঘাত এখন তুঙ্গে।
ধরনা মঞ্চ থেকে মমতা ফের সেই পুরনো মেজাজে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “বাংলাকে অপমান করলে আমি ছেড়ে কথা বলব না। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে নির্বাচন জেতার স্বপ্ন দেখছে বিজেপি, কিন্তু বাংলার মানুষ এই চক্রান্ত সফল হতে দেবে না।” ১০ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে। তার আগে রাজপথে নেমে জনমত গঠন করা এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ বাড়ানোই মমতার প্রধান কৌশল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে, বিজেপি এই ধরনাকে ‘পরাজয়ের আগাম অজুহাত’ বলে কটাক্ষ করলেও, রাজপথের এই লড়াই ২০২৬-এর নির্বাচনী পারদকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিল।